তিনটি উড়োজাহাজ কেনার আড়ালে হংকংয়ের একটি শেল কোম্পানি ব্যবহার করে প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করেছে স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইনস লিমিটেড, যা বর্তমান বিনিময় হারে ১২০ কোটি টাকা। অবৈধ অর্থপাচারে এশিয়ার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি রয়েছে হংকংয়ের।
টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে থাকা নথি বলছে, সেনানিয়ন্ত্রিত ট্রাস্ট ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে তিন দফায় বিদেশে এ অর্থ পাচার করা হয়।
মাসব্যাপী অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, উড়োজাহাজগুলোর অস্বাভাবিক বাড়তি মূল্য দেখানো ও ভুয়া চুক্তি দেখিয়ে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে অর্থপাচার করা হয়। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও সিআইডির অনুসন্ধান শেষে এখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করছে।
শেল কোম্পানি হলো এমন কাগুজে প্রতিষ্ঠান, যার বাস্তবে কোনো ব্যবসা বা সম্পদ নেই, কিন্তু অর্থপাচার বা গোপন লেনদেন আড়াল করতে ব্যবহার করা হয়।
স্কাই ক্যাপিটালের প্যারেন্ট কোম্পানি ব্লু প্লানেট গ্রুপ দেশের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল ব্যবসায়ী যাদের হসপিটালিটি সেবাও রয়েছে। আলোচিত এই শিল্পগোষ্ঠীটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান, যিনি সাংবাদিকতা ও চা বাগানের চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্স লিমিটেডের নাম উঠে আসে।
টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে আসা নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী মোট ৫ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার মুল্যের তিনটি কার্গো বিমান কেনার কথা থাকলেও ৩ দফায় ১২ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার বিদেশে পাঠায় প্রতিষ্ঠানটি। দুটি এলসির বিপরীতে তিনটি বিমান কিনে দেশে আনার ৫ মাস পরে আরেক দফায় এলসির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠায়। অথচ এই তৃতীয় এলসির বিপরীতে কোনো উড়োজাহাজ দেশে আসেনি।
নথি বলছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর একটি পুরাতন বোয়িং ৭৩৭-২০৯ পরিবহন বিমান কেনার জন্য ফিলিপাইনের কোম্পানি হেলি ক্রাফ্ট এরো ইন্ড্রাস্টিজের সঙ্গে ২ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পাদন করে। কিন্তু ১৯৮৮ সালে প্রস্তুতকৃত এই এয়ারক্রাফট আমদানিতে ওভার ইনভয়েজ করে খোলা হয় ৩ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র। ট্রাস্ট ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখা চুক্তিমুল্য থেকে ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করে বিক্রেতা কোম্পানিকে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান টাইমসকে জোর দিয়ে বলেছেন, ‘এই বোয়িংটি আমদানিতে ৬ মিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। তার বক্তব্য আমলে নিলে, এই এয়ারক্রাফট আমদানি করতে এলসিতে চুক্তি মূল্যের চেয়ে ৩ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার বেশি প্রদান করা হয়েছে। এই হিসেবে, মোট পাচার করা অর্থের পরিমান ৯ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলার বা ১২০ কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পরবর্তীতে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে স্কাই ক্যাপিটাল আবারও বিমান কেনার আড়ালে অর্থপাচার করে। পুরাতন দুইটি ফকার-৫০ কার্গো বিমান কেনার জন্য ২০১৫ সালের ১৬ অক্টোবর পিটি ইন্দোনেশিয়া ট্রানস্পোর্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার টিবিকের সঙ্গে ৩ মিলিয়ন ডলারে চুক্তি করে। এখানেও ওভার-ইনভয়েস করে ট্রাস্ট ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখার মাধ্যমে দ্বিগুনেরও বেশি। অর্থাৎ ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে ২৩৫৯১৫০১০৩/২০১৫ নম্বর এলসির মাধ্যমে।
সবচেয়ে আলোড়নকারী তথ্য হচ্ছে, এই এলসির অর্থ চুক্তি অনুযায়ী সরবরবাহকারী ইন্দোনেশিয়ান কোম্পানিকে পরিশোধ না করে হংকং ভিত্তিক একটি টেক্সটাইল মেশিনারি সরবরাহকারী হংইউয়ান টেক্সম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হংকং ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এয়ারক্রাফট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। হংইউয়ান টেক্সম্যাচ কোনো দিনই কোনো এয়ারক্রাফট উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যবসায় জাড়িত ছিল না বলে হংকংয়ের সরকারি সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে টাইমস। ২০১১ সালে চালু হয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে হংইউয়ান টেক্সম্যাচ বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থপাচারে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে হংকংয়ের জয়েন্ট ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (জেএফআইইউ) কাছে।
হংকং অর্থ পাচারের বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই মর্মে ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা দেশটির অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইলেনকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে।
এই তিন কোম্পানির কয়েকটি ইমেইল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফকারের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি ইন্দোনেশিয়ার পিটি ব্যাংক এমএনসি ইন্টারন্যাশনালের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করার অনুরোধ জানিয়ে স্কাই ক্যাপিটালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর খলিল বিন ওয়াহিদকে মেইল করেছিল। কিন্তু তা না করে পিং আন ব্যাংকের নানজিং শাখায় থাকা হংইউয়ান টেক্সম্যাচের অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রেরণ করে প্রতিষ্ঠানটি।
হংকংয়ে চীনের এই ব্যাংকটির একটি শাখা রয়েছে। গুরুতর নিয়ম ভঙ্গের কারণে পিং আন ব্যাংককে ২০১৮ সালে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ইউয়ান জরিমানা করেছিল।
নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্রাস্ট ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় ১৯ অক্টোবর ২০১৫ সালে যে এলসি খোলা হয়েছিল ওখানে দুটি বিমানের পরিবর্তে একটি আমদানির কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালের ১১ ও ১২ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার হুসেইন সাস্ত্রনেগারা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে দুটি এয়ারক্রাফটই বুঝে নিয়েছিলেন স্কাই ক্যাপিটালের চিফ অপারেশন অফিসার ইউং কমান্ডার (অব.) মো. হাসান মাসুদ। এভাবেই কোম্পানিটি প্রতারণার আশ্রয় নেয়।
আরও মজার ব্যাপার হলো, এই কার্গো বিমান দুটি বুঝে পাওয়ার ৫ মাস পরে, অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল রূপালী ব্যাংকের লোকাল অফিস শাখায় আবারও আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলে স্কাই ক্যাপিটাল। এই এলসিতে আরেকটি বিমানের সিরিয়াল নাম্বার উল্লেখ করা হয়, যেই সিরিয়াল নম্বরটি ট্রাস্ট ব্যাংকের এলসিতে গোপন করা হয়েছিল। ট্রাস্ট ব্যাংকে এলসিতে ফকারের সিরিয়াল ২০৩১৬ এবং রূপালী ব্যাংকে এলসিতে ২০১৮৬ সিরিয়াল উল্লেখ রয়েছে।
তবে স্কাই ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ট্রাস্ট ব্যাংকে যে এলসি হয়েছে, এই এলসি আর কোনো ব্যাংকে হয়নি। একই এলসি দুই ব্যাংকে করার সুযোগ নেই। এই অভিযোগ ভুল।’
তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, অত্যন্ত চালাকের সঙ্গে এই জালিয়াতি করা হয়েছে। কেননা, রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠনো পুরো অর্থই পাচার করা হয়।
ট্রাস্ট ও রূপালী ব্যাংকের এলসি ডকুমেন্টগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখালে তারা আশ্চর্য হন। এগুলো বিশ্লেষণ করে টাইমসকে তারা নিশ্চিত করেন, এই বিমান কেনার আড়ালে শুরুতেই অর্থ পাচারের উদ্দেশ্য ছিল আমদানিকারকদের। যে কারণে দুটি ব্যাংকের এলসিতে আমদানিকারক দুটি পৃথক বিমানের উৎপাদন সিরিয়াল নম্বর ব্যবহার করেছেন। এজন্য এই এলসি জালিয়াতির ঘটনাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডে ধরা পড়েনি।
একই পণ্য আমদানির বিপরীতে যাতে কেউ একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলে অর্থপাচার করতে না পারে, সেজন্য কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেকোনো এলসি খুলতে গেলে ড্যাশবোর্ডে তথ্য জমা দিতে হয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে।
ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, হংকংয়ের হংইউয়ান টেক্সম্যাচের সঙ্গে বিমান ক্রয়ের ভুয়া চুক্তিপত্র দেখিয়ে রূপালী ব্যাংকে খোলা এলসির বিপরীতে ২০১৬ সালের ১০ মে ২ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে স্কাই ক্যাপিটাল। একটি টেক্সটাইল কোম্পানি কীভাবে বিমান সরবরাহ করতে পারে, তা আমদানিককারকে একবারও এই প্রশ্ন করেনি ট্রাস্ট কিংবা রূপালী ব্যাংক। কিংবা দ্বিতীয় দফায় এলসি খোলার পর বিমান দেশে এসেছে কি না–সেটিও তদারকি করেনি রূপালী।
স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট বলছে, রূপালী ব্যাংকে এলসি খোলার পর নতুন কোনো বিমান তাদের বহরে যোগ হয়নি। পূর্বের মতো এখনো তিনটি কার্গো বিমান রয়েছে তাদের হাতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘ওভার ইনভয়েসিং, শেল কোম্পানিকে টাকা পরিশোধ এবং একই বিমান আমদানিতে দুইবার এলসি খোলার দায় কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এড়াতে পারে না।

এক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের দায় আছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান টাইমসকে বলেন, ‘ট্রেড বেজড মানিলন্ডারিংয়ের দায় ব্যাংক কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এলসি খোলার সময় গুগলে মার্কেট যাচাই করে নিলেই পণ্যের প্রকৃত দাম জানা যায়। কিংবা কোনো কোম্পানির কাছে টাকা পাঠানো হচ্ছে তাদের সম্পর্কে জানা যায়। এটা খুবই সহজ কাজ।’
‘ব্যাংকাররা যদি ভালো না হয়, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচার কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না,’ যোগ করেন তিনি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান টাইমসকে বলেন, ‘মিসইনভয়েসিংয়ের সঙ্গে ব্যাংক, রাজস্ব বোর্ডসহ বন্দর কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকে। সবার সাহায্য ছাড়া ওভার ইনভয়েসিং বা আন্ডার ইনভয়েসিং করে অর্থপাচার করা সম্ভব নয়। তাই জড়তি সবাইকেই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’
বিমান কেনার আড়ালে অর্থপাচারের বিষয়টি নিয়ে দুদক এখন অধিকতর তদন্ত করছে বলে জানান সংস্থাটির অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাত আহমেদ।
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্স লিমিটেড ১২২ কোটি টাকার এলসি খুলে অনিয়ম করেছে এমন অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দুই দফায় কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি পুরোনো হওয়ায় এখন অধিকতর তদন্ত চলছে।’
স্কাই ক্যাপিটাল যখন ভুয়া তথ্য দিয়ে রূপালীর মাধ্যমে অর্থপাচার করেছিল তখন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন ফরিদ উদ্দিন। ঢাকায় ও গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিকে, এলসির মাধ্যমে অর্থপাচারের বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংকটির দিলকুশা করপোরেট শাখার চিফ ম্যানেজার বিধান চন্দ্র প্রামাণিকের সঙ্গে। তিনি এই বিমান আমদানির এলসির খোলার সময় শাখার বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের ইনচার্জ ছিলেন এবং এলসি ডকুমেন্টসে তার স্বাক্ষর রয়েছে।
টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘ট্রাস্ট ব্যাংকের কোনো শাখার এক টাকারও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেই।’
তিনি বলেন, ‘যেকোনো এলসি কিংবা ঋণের প্রস্তাব শাখা থেকে প্রধান কার্যালয়ে যায়। সেখানকার সংশ্লিষ্ট বিভাগ হয়ে ক্রেডিট কমিটিতে আলোচনা হয়। তারপর ইসি কমিটিতে, আর পরিমাণ বড় হলে পর্ষদে অনুমোদন হয়। এরপর প্রধান কার্যালয় থেকে আসা সিদ্ধান্ত শাখা বাস্তবায়ন করে।’
এ প্রসঙ্গে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান জামান চৌধুরী বলেন, ‘অনেক আগের বিষয় হওয়ায় বিষয়টি আমার জানা নেই।’
‘গ্রাহকের তথ্য কেন দেব’–এই প্রতিবেদককে ধমকের সুরে প্রশ্ন করে আহসান জামান চৌধুরী বলেন, ‘আপনাদের পত্রিকার মালিকানায় কারা আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলছি।’
স্কাই ক্যাপিটালের এই অর্থপাচারের ঘটনার সময় ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন সিলেটের ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী। তবে তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে ট্রাস্ট ব্যাংকে ইউরোপা গ্রুপের ৫৯ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে ইশতিয়াক আহমেদ ২০১৮ সালের মে মাসে দুদক হাজির হয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
টাইমসের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে, যে প্রক্রিয়ায় অর্থপাচার করা হয়েছে সেটি ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এটি স্বীকার করেছে। কিন্তু পাচারের ঘটনা ১০ বছর পেড়িয়ে গেলেও এই বিষয়ে অদৃশ্য কারণে নীরব ভূমিকায় রয়েছে বিএফআইইউসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো।
গত বছরের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল আরিফুর রহমানের, যার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ টাইমসের হাতে এসেছে। শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে তাকে মিশতে দেখা গেছে। এই পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে বিএফআইইউসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এ ছাড়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া, সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত পলাতক কর্মকর্তা লেফটেনেন্ট জেনারেল মজিবুর রহমানের সঙ্গে আরিফুর রহমানের ঘনিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। সেনাবাহিনীতে থাকাকালে আরিফুর রহমানের পক্ষ হয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে মুজিবুর রহমানের হুমকি ও চাপ প্রয়োগের একাধিক অভিযোগ টাইমসের কাছে এসেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমসকে বলেন, ‘ব্লু প্লানেট গ্রুপের ঋণ প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করার সময় তারা তৎকালীন এসএসএফ ডিজি মজিবুর রহমানের রেফারেন্স পেয়েছেন। এজন্য নিয়ম-নীতির বাইরে গিয়ে আরিফুর রহমানকে ব্যাংকিং সুবিধা দিতে হয়েছে।’
ব্লু প্ল্যানেট গ্রুপ পতিত সরকারের আমলে নানা ধরনের জালিয়াতি, প্রতারণার ও ব্যাংক লুটপাটের মাধ্যমে ফুলে ফেপে উঠে। এই গ্রুপের অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা ও জালিয়াতির আরও তথ্য প্রমাণ টাইমসের হাতে এসেছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরিফুর রহমানের ব্লু প্লানেট গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের নামে রূপালী ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, এই বিপুল ঋণের বিপরীতে রূপালী ব্যাংকের কাছে মাত্র ১৬১ কোটি টাকার জামানত রয়েছে, যা মোট ঋণের মাত্র ১৩ শতাংশের নিরাপত্তা দিচ্ছে। তবে জামানত অতি মূল্যায়িত কি না–নিশ্চিত নয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে স্কাই ক্যাপিটালের ঋণের হিসাব যাচাই করে দেখা গেছে, ৪১ কোটি টাকার তিনটি পুরোনো বিমানের জন্য রূপালী ব্যাংক ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প ঋণ দিয়েছে, যা সুদ বেড়ে এখন ১৭২ কোটি টাকায় ঠেকে। ঋণটি খেলাপি হয়ে পড়ায় সম্প্রতি ১ দশমিক ৪ কোটি টাকা ডাউনপেমেন্ট দিয়ে পুনঃতফসিল করে নিয়েছে। রূপালী ব্যংকের হিসাবে, এই ঋণে ১০ কোটি টাকার জামানত রয়েছে। এই প্রকল্পে শুরুতে ট্রাস্ট ব্যাংক প্রায় ৫০ কোটি টাকা অর্থায়ন করলেও পরবর্তীতে রূপালী ব্যাংক টেকওভার করে।
প্রতিষ্ঠানটির অর্থপাচারের বিষয় জানেন না বলে রূপালী ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম টাইমসকে বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
ডকুমেন্ট-১: https://drive.google.com/file/d/1vkGfcvstJTrr2pBgI9btYbmUyY2ENM7a/view?usp=drive_link
ডকুমেন্ট-২: https://drive.google.com/file/d/1eLcFJV4-TA4noMX4MThZFDUHb_eSbxnO/view?usp=drive_link
ডকুমেন্ট-৩: https://drive.google.com/file/d/1Wl-f_SGOn4CVTp6o8iGGLO-CMVPOqtOh/view?usp=drive_link
ডকুমেন্ট-৪: https://drive.google.com/file/d/1NcSu6XbWPjJRj5e3IGcY3CG_O3a6yLPS/view?usp=drive_link
ডকুমেন্ট-৫: https://drive.google.com/file/d/1EKBd-tVLBgqVVXG5gnw6u_RUHXjXghHE/view?usp=drive_link
ডকুমেন্ট-৬: https://drive.google.com/file/d/13vv3uYj1sgHm2JHrKNcpwoXaAFSb7HJf/view?usp=drive_link


