আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য সিসিটিভি এবং বডিক্যামের ব্যবহার বিষয়ে কিছু করার নেই জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির উপসচিব রাশেদুল ইসলামের সই করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ইসির করণীয় জানতে চিঠি দিয়েছিল।
সেই চিঠির জবাবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৬ আগস্ট আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন লজিস্টিক্যাল ইস্যু ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক সভার কার্যবিবরণীর আলোচ্যসূচি ৯-এর পরিপ্রেক্ষিতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে করণীয় কিছু নেই মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।’
এর আগে গত ৯ জুলাই নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি সংক্রান্ত সভায় সরকারপ্রধান এক গুচ্ছ নির্দেশনা দেন, সেগুলোর মধ্যে ছিল- ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য করণীয় অনুসন্ধান, ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভির আওতায় আনা।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহও সেসময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সিসি ক্যামেরা নিয়ে কমিশন ভাবছে না।
যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও পুলিশকে বডি ক্যামেরা দেওয়ার কথা বলেছেন।
আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এই নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, ‘নির্বাচনে সিসি ক্যামেরার ব্যবহারকে যৌক্তিক মনে করছে না ইসি। এটা নিয়ে অলরেডি আমরা তিন চারটা মিটিং করেছি। এক দিনের জন্য আউটসোর্স করেও পাওয়া যায় না ভাড়াতে। আবার কেনাও যৌক্তিক নয়। ৪৫ হাজার কেন্দ্র, হিসাব করে দেখেন কতগুলো সিসি ক্যামেরা লাগবে। এটা কিনে আপনি রাখবেন কীভাবে? এটা জাস্টিফাই করবেন কীভাবে?’
এর আগে গত ৬ আগস্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা ও ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে ৪৭ হাজার কেন্দ্রে একটি করে বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
কারা বডি ওর্ন ক্যামেরা পাবে সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের ৪৭ হাজার ভোট কেন্দ্রের প্রতি কেন্দ্রেই একটি করে বডি ওর্ন ক্যামেরা দেয়ার চেষ্টা করা হবে। পুলিশের মধ্যে যিনি সিনিয়র পদধারী থাকবেন, তার কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে।’


