বাংলাদেশে হাম ও ভাইরাস জ্বরসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি এবং ক্যানসার ও লিভারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চায় ভারতের রাজস্থানের উদয়পুরে অবস্থিত প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালটির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তারা জানান, ভারতের নামী হাসপাতাল সিএমসি বা অ্যাপোলোর তুলনায় অনেক কম খরচে বাংলাদেশি রোগীদের বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে পিআইএমএস হাসপাতালের অনকো সার্জারি সার্ভিসের পরিচালক কুরেশ বামবারা বলেন, বাংলাদেশ সরকার চাইলে দেশের বর্তমান হাম ও ভাইরাস জ্বরের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় পিআইএমএস তাদের অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠিয়ে সরাসরি সহযোগিতা করবে।
এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারত থেকেও অডিও-ভিডিও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করতে তারা প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা ডকুমেন্টেশন তৈরিতে সহায়তা এবং অস্ত্রোপচার শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসার পরও নিয়মিত ফলোআপের বিশেষ সুবিধা।
গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সার্জারি সার্ভিসের পরিচালক কামাল কিশোর বিষ্ণু হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরে বলেন, সেখানে লিভার, প্যানক্রিয়াস ও পিত্তথলির জটিল সব সার্জারি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
প্রতিটি প্রাইভেট ওয়ার্ডের বেডেও ভেন্টিলেশন মনিটরিং সিস্টেম রাখা হয়েছে, যা সাধারণত কেবল আইসিইউতে থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভেলোর বা চেন্নাইয়ের তুলনায় এখানে থাকা, খাওয়া এবং রোগ নির্ণয়ের (ডায়াগনস্টিক) খরচ অনেক কম। কোনো ধরনের গোপন চার্জ ছাড়াই অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা এখানে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারবেন।
হাসপাতালটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কামাল কিশোর জানান, বাংলাদেশ সরকার চাইলে পিআইএমএস বাংলাদেশি চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবে, যাতে তারা দেশে ফিরে আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদান করতে পারেন।
এমনকি আগ্রহী চিকিৎসকদের পিআইএমএস হাসপাতালে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়। হাসপাতালটি একটি বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এখানে চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত আধুনিক গবেষণা চলে। বিশেষ করে অনকো সার্জারিতে ‘টিউমার ম্যাপিং’ এবং ‘মিনিমালি ইনভেসিভ টেকনিক’ ব্যবহারের মাধ্যমে সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচার করা হয়, যা রোগীর দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার অনিতা রায় বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে সীমান্ত ছাড়িয়ে মানুষের সেবা করা। তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে একযোগে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজস্থানের অন্যতম শীর্ষ এই চিকিৎসা কেন্দ্রে আধুনিক মডুলার অপারেশন থিয়েটার এবং উচ্চ-রেজোলিউশন ডায়াগনস্টিক ইমেজিংয়ের সুবিধা রয়েছে, যা এখন থেকে বাংলাদেশিরা বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে পারবেন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও উপস্থিত ছিলেন।


