বরিশালে পাওনা টাকা ফেরত দিতে ডেকে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

বরিশালে পাওনা টাকা ফেরত দিতে ডেকে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
মুলাদী থানা। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আল আমিন হাওলাদার (২৩) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা।

নিহত আল আমিন হাওলাদার ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় নোমান পণ্ডিত, আজিজুল সরদার ও শাহাবুদ্দিন ঘরামীকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের দাবি, উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের সালাম পণ্ডিতের ছেলে নোমান পণ্ডিত (৩৫), দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের আক্তার ওরফে নান্নু সরদারের ছেলে আজিজুল সরদার (২৭), লক্ষ্মীপুর গ্রামের হানিফ আকনের ছেলে কাওসার আকন (৪৫) ও আলী ঘরামীর ছেলে শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ চার থেকে পাঁচজন মিলে আল আমিনকে হত্যা করেছে।

মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন

নিহতের ভাই আসিফ হাওলাদার জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নোমান পণ্ডিত ও আজিজুল সরদার তাদের বাড়িতে যান। তারা আল আমিনকে পাওনা টাকা দেবেন বলে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন। পরে আল আমিনকে মোটরসাইকেলে করে নোমান পণ্ডিতের বাড়ি নিয়ে যান। সেখানে নোমান পণ্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ কয়েকজন আল আমিনকে মারধর ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পরে মৃত ভেবে তারা আল আমিনকে পার্শ্ববর্তী বিলের মধ্যে ফেলে দেন।

বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসিফকে মোবাইলে জানান। পরবর্তীতে তিনি লোকজন নিয়ে নোমান পণ্ডিতের বাড়ির পাশ থেকে তার ভাইকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক কামরুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘তার ভাই এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে তিনি একটি মাদক মামলায় জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফেরেন। আল আমিন বিভিন্ন সময়ে নোমান পণ্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শান্ত হাওলাদারসহ কয়েকজনকে ১০ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফিরে তার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি নোমানসহ অন্যদের কাছে টাকা ফেরত চান। পরে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাঁর আল আমিনকে হত্যা করে।’

এ ঘটনায় নিহতের মা ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি।

অপরদিকে নিহত আল আমিনকে উদ্ধারের সময় তার স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে নোমান পণ্ডিত ও আজিজুল সরদারকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে সফিপুর ফাঁড়ি পুলিশ ওই এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন ঘরামীকেও আটক করে।

ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা টাইমসকে বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত অন্যদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad