বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করেন দু’জন পুলিশ সদস্য– আদালতকে এমনটাই জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ তথ্য জানান ওই শিক্ষার্থী।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রিনা মুরমু। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তিনি চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
সাক্ষ্যে রিনা বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেখান থেকে স্পষ্টভাবে দেখি– দু’জন পুলিশ সদস্য আবু সাঈদকে গুলি করেন। পরে জানতে পারি, তাদের নাম আমির ও সুজন চন্দ্র।’
সাক্ষ্য শেষে রিনা মুরমু আদালতের কাছে দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী শেখ হাসিনা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রলীগ ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ– তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাকে জেরা করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন মিজানুল ইসলাম। আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার আরেক আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
এই মামলায় গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্য উদঘাটনে সহযোগিতা করতে রাজি হওয়ায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রোভার) হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে, ১৬ জুন ট্রাইব্যুনাল-১ পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে হাজির হতে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। পরদিন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উভয় আসামিকে ৭ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। আত্মসমর্পণ না করায় আদালত রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দিয়ে তাদের পক্ষে শুনানি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। শুনানি শেষে ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গত ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় আরও অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি পৃথক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
একই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচার শুরু হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত আরও দুটি মামলা চলমান রয়েছে– একটি তার শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে এবং অন্যটি ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বর সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে।


