বরগুনার বিভিন্ন উপজেলা থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই নারী, এক কলেজছাত্র ও এক রিকশাচালকসহ মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকালে বরগুনা সদর, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা থেকে চারজন এবং শুক্রবার রাতে সদরের পাতাকাটা এলাকা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে সদরের আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া এলাকার কিসলু মিয়ার স্ত্রী কনা বেগমের (৩৪) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
সকাল ১০টার দিকে নলী এলাকার নিজ বাসা থেকে ৯৩ বছরের বৃদ্ধা সালেহা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বরগুনার বামনার কলাগাছিয়া এলাকায় চাচার বাসা থেকে আবির হোসেন এছান (১৭) নামে এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিন ভোর ৬টার দিকে পাথরঘাটার পৌর শহরের ইমান আলি সড়ক এলাকার নিজ বাসার সামনে থেকে রিকশাচালক মিজানুর রহমানের (৪৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মিজানুর পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত সফেজ উদ্দিনের ছেলে।
মিজানুরের স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে নিজ বাসায় রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মিজানুর। শনিবার ভোরে স্থানীয়রা রাস্তার পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশে খবর দেন।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় সদরের বদরখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম করার জেরে পাতাকাটা এলাকায় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী কালু ওরফে ইব্রাহিম ওরফে বস্তি কালু নিহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহত কালুর নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১৪টি মামলা রয়েছে।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, শনিবার সকালে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার গণধোলাইয়ে নিহত এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাগুলো তদন্ত করা হবে।


