আজ (৩০ জুলাই) কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতার জন্মদিন। ‘অশনি সংকেত’-এ তার ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় আজও দর্শকের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে।
আসল নাম ফরিদা আখতার পপি। চলচ্চিত্রে আসেন বড়বোন আরেক অভিনেত্রী সুচন্দার অনুপ্রেরণায়। জহির রায়হানের ‘সংসার’-এ শিশুশিল্পী হিসেবে ববিতার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালে। এই চলচ্চিত্রে তিনি রাজ্জাক-সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন, যদিও ছবিটি মুক্তি পায়নি।
চলচ্চিত্র জগতে তার প্রাথমিক নাম ছিলো ‘সুবর্ণা’। তিনি আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘কলম’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন সে সময়। জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ অভিনয় করতে গিয়ে তার নাম ‘ববিতা’ হয়ে যায়। প্রযোজক ক্যামেরাম্যান আফজাল চৌধুরী ও তার স্ত্রী ববিতা নাম রাখার প্রস্তাব করেন।
‘শেষ পর্যন্ত’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে তার অভিষেক হয়। চরিত্রে। ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্ট এটি মুক্তি পায় এবং ঐদিন তার মা মারা যান। সেই ছবিতে ১২০০০ টাকা পারিশ্রমিক পান, তিনি সেই টাকা দিয়ে একটি টয়োটা গাড়ি কেনেন। তার কর্মজীবনের শুরুতে ভগ্নিপতি জহির রায়হানের পথ প্রদর্শনে চললেও পরে তিনি একাই পথ চলেছেন।
জহির রায়হানের ‘টাকা আনা পাই’ তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়। এরপর তিনি নজরুল ইসলামের ‘স্বরলিপি’-তে অভিনয় করেন যা ছিল সুপারহিট। ছবিটির পর তার ক্যারিয়ার অন্য উচ্চতায় চলে যায়। দেশের বাণিজ্যিক ছবিতে তার চাহিদা তুঙ্গে উঠে যায়। সত্তর দশকে অন্য শীর্ষ নায়িকা শাবানা, কবরীর সঙ্গে টেক্কা দিয়ে সমান তালে কাজ করে গেছেন।
১৯৭৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের প্রবর্তন হলে তিনি টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছবিগুলো হল ‘বাঁদী থেকে বেগম’, ‘নয়নমনি’ ও ‘বসুন্ধরা’। পরবর্তীতে তিনি ‘রামের সুমতি’ ছবির জন্যও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। ‘পোকা মাকড়ের ঘরবসতি’ ছবি প্রযোজনার জন্য এবং ‘হাছন রাজা’ ও ‘কে আপন কে পর’ ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৬ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আজীবন সম্মাননা’ পান। সবমিলিয়ে তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সংখ্যা ৮টি।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়া দেশ-বিদেশে আরও অসংখ্য পুরস্কার পান ববিতা। তার অভিনীত ‘অশনি সংকেত’ ১৯৭৩ সালে ২৩তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে গোল্ডেন বীয়ার জিতেছিল।
১৯৫৩ সালের আজকের দিনে জন্ম নেওয়া ববিতার কৈশোর কেটেছে যশোরে। তার বাবা সরকারী চাকুরীজীবি ছিলেন। বড় বোন সুচন্দার অভিনয়ের কারণে তারা ঢাকায় স্থায়ী হন। এ কারণে ববিতার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। তবে ব্যক্তিগত চেষ্টায় ববিতা শিক্ষিত হন, তিনি একাধিক ভাষায় কথা বলার দক্ষতাও অর্জন করেন।
বড়বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পা ছাড়া একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রী তার আত্মীয়। এদের মধ্যে ভগ্নিপতি জহির রায়হান, ভাগ্নে ওমর সানী, ভাগ্নে বউ মৌসুমী এবং চাচাতো ভাই রিয়াজ উল্লেখযোগ্য। ববিতার পিতা নিজামুদ্দীন আইয়ুব সরকারী কর্মকর্তা এবং মাতা জাহান আরা বেগম পেশায় চিকিৎসক ছিলেন।
চিরসবুজ অভিনেতা জাফর ইকবালের সাথে ববিতার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে এ সম্পর্কের কোন সফল সমাপ্তি ঘটে নি।
আশির দশকের শুরুতে ববিতা চট্টগ্রামের সন্তান চলচ্চিত্র পরিচালক ইফতেখারুল আলমকে বিয়ে করেন। তবে তাদের এ সংসার বেশিদিন টিকেনি। তাদের সন্তান অনিক। বর্তমানে অনিক কানাডায় থাকছেন। ববিতাও বছরের বেশিরভাগ সময় অনিকের সাথে কানাডায় অবস্থান করেন।


