দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার সকালে এই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ইউনিটের বয়লারের টিউবটি এদিন সকালে হঠাৎ ফেটে যায়। এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়। প্রধান প্রকৌশলী জানান, সচল থাকা একমাত্র ইউনিটটি বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বয়লারের ভেতরের তাপমাত্রা প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। বর্তমানে এটি ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, বয়লারটি পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত ভেতরে প্রবেশ করে মেরামত কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। সবকিছু ঠিক থাকলে এই ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ১নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটি এখন সম্পূর্ণ উৎপাদনহীন হয়ে পড়েছে।
২য় ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন হওয়ায় ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে এটি বন্ধ রয়েছে। এটি চালু করার বিষয়ে এখনো মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে কর্তৃপক্ষ।
২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩য় ইউনিট গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ। তবে আশার কথা হলো, চীন থেকে এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আসার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী মার্চ মাস নাগাদ এই ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরতে পারে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিটের সবকটিই এখন বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলসহ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। দ্রুততম সময়ে ১নং ইউনিটটি সচল করার লক্ষ্যে কাজ করছে কারিগরি দল।


