বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় মোন্থায় পরিণত হয়েছে। এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
এর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী শ্রেণি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক শূন্য ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫ দশমিক শূন্য ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ায় এর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। আগামীকাল মোন্থার প্রভাব কেটে গেলে গরম কমে যাবে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দেওয়া পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে টানা পাঁচ দিন পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমে ১ নভেম্বর থেকে আবহাওয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।
অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে চট্টগ্রামের বাতাসে বেড়েছে আর্দ্রতা ও ধুলিকণা। যাদের শ্বাসকষ্ট, গলা বা ত্বকের অস্বস্তির মতো সমস্যা আছে, তাদের বাইরে দীর্ঘ সময় না কাটানোর পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
ঘূর্ণিঝড় মোন্থা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সংকেত জারি করা হয়নি। তবে এটি গভীর নিম্নচাপ থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এর আংশিক প্রভাব পড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্ট হলে তার প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন ঘটে। এ কারণে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় সাময়িক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।


