এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বগুড়ার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আটটি মাদ্রাসা এবং একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে
সোমবার রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানা যায়।
শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো গাবতলী উপজেলার কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদ্রাসা, শিবগঞ্জ উপজেলার বালা বত্রিশ দাখিল মাদ্রাসা, ধাড়িয়া গাংগইট দাখিল মাদ্রাসা ও দুদাহার রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা; শেরপুর উপজেলার কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও মধ্যভাগ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা; ধুনট উপজেলার হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ ও রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসা এবং সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদ্রাসা।
এমন নজিরবিহীন ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা। গাবতলীর কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদ্রাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার ৫০ বছরের কর্মজীবনে এটি সবচেয়ে দুর্বল ব্যাচ। ২১ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এমন ফল অত্যন্ত হতাশাজনক। বর্তমানে আলিম মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থী ধরে রাখা ও তাদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
শিবগঞ্জের বালা বত্রিশ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. জুয়েলুর রহমান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত এবং এবার মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিই এই খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তিনি।
অন্যদিকে, ধুনটের হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক জানান, তার প্রতিষ্ঠানের সাতজন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও কলেজের ভবনের ঢালাইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি তখনও ইন্টারনেটে ফলাফল দেখতে পারেননি।
এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার জানান, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ঘাটতি বা অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করা হবে।


