যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার উদ্দেশে যাওয়া মানবিক সহায়তাকারী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটক এবং মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এর আগে একই স্থানে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।
এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তারা ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

এদিকে, ত্রাণ নিয়ে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার শেষ জাহাজ ‘মারিনেট’কেও আটক করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। শুক্রবার আন্তর্জাতিক সময় সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে গাজা উপকূল থেকে ৫১ দশমিক ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে, ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে জাহাজটি আটক করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে গাজামুখী আরও ৪১টি নৌযান এবং ফিলিস্তিনের সমুদ্রসীমা থেকে একটি নৌযান আটক করে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা মূলত গাজার জন্য সমুদ্রপথে মানবিক সাহায্য পাঠানোর উদ্যোগ। গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে নৌবহরটি। ধীরে ধীরে এতে যুক্ত হয় ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান এবং ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ জন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও নির্বাচিত প্রতিনিধি।
তবে গাজার কাছাকাছি পৌঁছানোর পরপরই একটি ব্যতীত সবগুলো নৌযান আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। আটক নৌযান, ক্রু এবং আরোহীদের নিয়ে যাওয়া হয় আশদোদ বন্দরে।
ফ্লোটিলা আটককে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হলেও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি সরকার কোনো প্রতিবাদকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।


