ফিলিস্তিনের গাজার উদ্দেশে যাওয়া মানবিক সহায়তাকারী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ থেকে আটক চারজন ইতালীয় নাগরিককে ফেরত পাঠাল ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাকি আটককৃতদের ধাপে ধাপে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ‘যত দ্রুত সম্ভব এই প্রক্রিয়া শেষ করতে চায়।’ একই সঙ্গে দাবি করা হয়, বর্তমানে আটক ৪৬১ জন কর্মীই ‘সুস্থ ও নিরাপদ’ আছেন।
এদিকে, ফ্লোটিলা সংগঠন আটক মানবাধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কয়েকজন অনির্দিষ্টকালের অনশন ধর্মঘট শুরু করেছেন।

এক বিবৃতিতে তারা আরও জানায়, এই দমন-পীড়নে আমাদের মিশন শেষ হবে না। ইসরায়েলের নৃশংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার অটল থাকবে।
এদিকে, ফ্লোটিলার শেষ নৌযান ‘মারিনেট’ আটক করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। শুক্রবার আন্তর্জাতিক সময় সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে গাজা উপকূল থেকে ৫১ দশমিক ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে, ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবস্থানকালে নৌযানটিকে আটক করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে গাজামুখী আরও ৪১টি নৌযান এবং ফিলিস্তিনের সমুদ্রসীমা থেকে একটি নৌযান আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী।

মানবিক সহায়তা পাঠানোর লক্ষ্যে গঠিত গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। এতে যুক্ত হয় ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান এবং ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও নির্বাচিত প্রতিনিধি। তবে গাজার জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর একটি ছাড়া বাকি সব নৌযান আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে আটক নৌযান, ক্রু ও যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয় আশদোদ বন্দরে।
ফ্লোটিলা আটককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ হলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার কোনো প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, তারা তেল আবিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়েছে।


