আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র ধ্বংস করে রাষ্ট্রক্ষমতাকে নিজেদের দখলে রেখেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা প্রায় ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র ধ্বংস করে রাষ্ট্রক্ষমতাকে নিজেদের দখলে রাখে। তাদের নতজানু নীতির কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াকু নেতাকর্মীদের গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।’
বাণীতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব শুধু মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা নয়, বরং আধিপত্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অভ্যুদয়ের সূচনা। সেদিন দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত সিপাহী-জনতা জাতীয় স্বাধীনতা সুরক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের অঙ্গীকার নিয়ে রাজপথে নেমে আসে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী একদলীয় বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে, মানুষের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেয়। ৭৫-এর ৩ নভেম্বর তারা মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে বন্দী করে। কিন্তু ৭ নভেম্বর অকুতোভয় সৈনিক ও জনতার ঢলে এক অনন্য সংহতির স্ফুরণ ঘটে এবং স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা পুনরায় শুরু হয়, বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আধিপত্যবাদী শক্তির এদেশীয় এজেন্টরা তাকে ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে হত্যা করে। জিয়া শহীদ হলেও তার আদর্শে বলীয়ান মানুষ এখনো গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন সময় এসেছে চূড়ান্ত গণতন্ত্র চর্চার। এজন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মৌলিক মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
৭ নভেম্বরের চেতনায় সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং শক্তিশালী গণতন্ত্র বিনির্মাণে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তারেক রহমান দেশবাসীকে আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।


