ফেলানী হত্যার ১৫ বছরেও থামেনি সীমান্ত রক্তপাত

ফেলানী হত্যার ১৫ বছরেও থামেনি সীমান্ত রক্তপাত
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া | ছবি : সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ১৫ বছর বয়সী ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলমান নির্যাতন ও সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ফেলানী হত্যাকাণ্ড স্মরণ করে সীমান্তে অব্যাহত সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় বিএসএফ সদস্যরা ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করে।

হত্যার পর তার মরদেহ কয়েক ঘণ্টা ধরে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ছিল। ওই দৃশ্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দেয়।

অধিকার জানিয়েছে, ফেলানী হত্যার বিচার আজও হয়নি। অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয়া ঘোষকে আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবির পরও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিচার প্রক্রিয়ায় খালাস দেওয়া হয়।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অন্তত ৬২৫ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এসব মৃত্যুর অধিকাংশই বিএসএফের হাতে সংঘটিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

এই ঘটনাগুলো ঘটেছে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে–যদিও দুই দেশ বারবার সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে।

অধিকারের নথিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, একই সময়ে সীমান্তে ৮০৮ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন এবং অন্তত ৫৪৯ জন অপহরণ বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিহতদের অনেকেই ছিলেন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক। তাদের মধ্যে শিশু ও কৃষকরাও রয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের শামিল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

সংবাদ সম্মেলনে এক ভুক্তভোগী তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, পাসপোর্টসংক্রান্ত একটি অভিযোগে তাকে প্রায় সাড়ে সাত মাস ভারতের দামদাম কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘শাস্তি ভোগ শেষ করার পর বিএসএফ আমাকে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেয়। কারাগারে আমাকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমি আমার ওপর চালানো নির্যাতনের বিচার চাই।’

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় পেয়েছিল। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ১৭ মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা বন্ধ হয়নি।

অধিকার ফেলানী হত্যাকে ভারতের কথিত “আগ্রাসী সীমান্ত নীতির” প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, গত ১৫ বছরে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, অপহরণসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিকতা গড়ে উঠেছে।

সংগঠনটি সব ভুক্তভোগীর জন্য ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়ে সীমান্তে সংঘটিত নির্যাতনে জড়িত বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad