দেশে ভোক্তাপর্যায়ে ফার্নেস অয়েলের (এইচএফও) মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি)। ১৫ টাকা ৯০ পয়সা কমিয়ে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা ১০ পয়সা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানি শেষে এই নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার কমিশনের প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, রোববার রাত ১২টা থেকেই সারা দেশে ফার্নেস ওয়েলের নতুন দাম কার্যকর হবে। এর আগে প্রতি লিটার ৮৬ টাকা দরে বিক্রি করা হতো।
বিইআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো), সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্প কারখানা এবং অন্য গ্রাহকদের জন্য ফার্নেস অয়েলের ভোক্তাপর্যায়ের মূল্য প্রতি লিটার ৭০ দশমিক ১০ টাকা, বিপণন চার্জ: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির জন্য বিপণন চার্জ প্রতি লিটারে শূন্য দশমিক ৭১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে ও সমন্বিত পরিবহন চার্জ প্রতি লিটারে ১ দশমিক ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বিপিসি মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব জমা দেয়। পরে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি তাদের বিপণন ও পরিবহন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। এসব প্রস্তাবের ওপর গত ২৯ জানুয়ারি কমিশন গণশুনানি করে এবং ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্রহী পক্ষগুলোর লিখিত মতামত জমা নেওয়া হয়।
সব তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শেষে বিইআরসি আইন ২০০৩-এর ২২(খ) ও ৩৪ ধারার ক্ষমতাবলে কমিশন এই নতুন মূল্যহার ও চার্জ চূড়ান্ত করেছে।
ফার্নেস অয়েল মূলত ভারী ধরনের জ্বালানি তেল, যা বড় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বয়লার ও জাহাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এটি অপরিশোধিত তেল শোধনের পর যে ভারী অবশিষ্টাংশ থাকে, সেখান থেকে তৈরি হয়। রঙ সাধারণত কালচে এবং এটি ঘন ও আঠালো প্রকৃতির। তাপ উৎপাদনের জন্য এটি খুব কার্যকর, তবে এতে সালফারের পরিমাণ বেশি হতে পারে, ফলে দূষণের ঝুঁকিও থাকে।
ডিজেল বা পেট্রলের মতো হালকা জ্বালানির তুলনায় এটি সস্তা। তবে পরিবেশ দূষণের কারণে অনেক দেশ ধীরে ধীরে এর ব্যবহার কমাচ্ছে এবং তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।


