শেরপুরের শ্রীবরদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সাব-অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অফিস চত্বরে বহিরাগত নারীকে নিয়ে নাচ-গান করে টিকটক করার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্টেশন প্রাঙ্গণের ভেতরে এক নারীর সঙ্গে নাচ-গানের ভঙ্গিতে অংশ নিচ্ছেন মো. আশরাফ উদ্দিন। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি দপ্তরের অভ্যন্তরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তা একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন মহল এবং ফায়ার সার্ভিসের একাধিক সদস্যের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সাধারণ মানুষের কাছেও আমাদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’
সাতানী শ্রীবরদী মহল্লার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। সরকারি অফিস প্রাঙ্গণে ব্যক্তিগত বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা ও সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বহিরাগত নারীদের অংশগ্রহণে নৃত্য পরিবেশনের আয়োজন করা হয়েছিল, যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।
তবে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত সাব-অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘টিকটক ভিডিও করার উদ্দেশ্যেই ভিডিওটি করা হয়েছিল। অনেকেই টিকটক করেন, আমিও করেছি।’
সরকারি দপ্তরের ভেতরে এ ধরনের ভিডিও ধারণ করা সমীচীন হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমন কাজ করা ঠিক হয়নি।’
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জামালপুর ও শেরপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেক বলেন, ‘অফিস চত্বরে একজন স্টেশন কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


