৪-০-২৮-৩, ৪-০-২৮-২, ৪-০-১৮-২, কেবলই সংখ্যা নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের বাঁচা-মরার ম্যাচে বাংলাদেশি বোলারদের বোলিং ফিগার। ক্রমানুসারে বোলিং স্পেলগুলোর মালিক তাসকিন আহমেদ, শেখ মাহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেন। তাদের এই দাপুটে বোলিংয়ের পর দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাওয়ারপ্লে আর মিডল ওভার মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তান। সব মিলিয়ে তাদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৩৫। ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৩৬।
ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে হারের ২০ ঘণ্টাও পেরোয়নি। তবে টানা ম্যাচ খেলার ধকল চোখে পড়েনি বরং দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াতে বডি ল্যাংগুয়েজ ছিল অনন্য। ইনিংসের তৃতীয় বলেই সাহিবজাদা ফারহানের দারুণ একটা ব্যাকফুট পাঞ্চ থেকে বাউন্ডারি। রানের খাতা খুলল পাকিস্তানের। পরের বলেই তাসকিনের বাউন্স ব্যাক। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ফুলার লেংথের বলটা মুভ করেছিল বেশ, সেখানেই ব্যাট ছুঁইয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দেন ফারহান। পরের ওভারেই শেখ মাহেদীর বলে মিড অনে শট খেলে রিশাদের হাতে ক্যাচ দেন সাইম আইয়ুব। টুর্নামেন্টে এই বাঁহাতি ব্যাটারের চতুর্থ ডাক।
শুরুতেই এই ধাক্কা খেয়ে যেন বাউন্ডারির জন্য উঠেপড়ে লেগে যান ফখর জামান। উইকেটে ছিলেন ২০ বল, এর প্রতি বলেই চালাচ্ছিলেন ব্যাট, বেশিরভাগই অবশ্য ক্রস ব্যাটেড শট। তার সেই স্ট্রাগলটা থামিয়েছেন রিশাদ। ফুল লেংথ বলে তুলে মারতে গিয়ে লং অফে তানজিম সাকিবের হাতে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
নিজের প্রথম স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে ফিরে আরো একবার বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন রিশাদ। আগের ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক হুসাইন তালাত পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন তার বলে সাইফ হাসানের হাতে। অবশ্য আরো একটা উইকেট এই লেগ স্পিনার পেতে পারতেন, যদি না তার শেষ ওভারে সোহান আর মাহেদী দুটো ক্যাচ না ফেলতেন।
অবশ্য মোস্তাফিজও ফিরেছেন তার কাটারের জাদু নিয়ে। পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা সালমান পরাস্ত হয়েছেন দলীয় ৫০ ছোঁয়ার আগেই। ইনিংসের ১১ তম ওভারে মোস্তাফিজের কাটার ছুঁয়ে যায় তার ব্যাটের কানা। আম্পায়ার আউট না দিলেও আওয়াজ পেয়েছিলেন জাকের আলী অনিকও। রিভিউ নেয়ার পর বদলে যায় সিদ্ধান্ত।
ব্যাটিং ধসের সন্ধ্যায় পাকিস্তান সাত নম্বরে নামিয়েছে শাহীন শাহ আফ্রিদিকে, উদ্দেশ্যে দ্রুত কয়টা রান তোলা। সেই পরিকল্পনা প্রায় সফল, দুই ছক্কায় ১৩ বলে ১৯ রান করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে তাসকিনের বলে থেমেছে তার ছোট্ট ক্যামিও। এরপর নিজের শেষ ওভারে ফিরে আরো একটা উইকেট নিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার।
যদিও সেই উইকেটটা আরো আগেই পেতে পারতেন তাসকিন। ইনিংসের ১৪-তম ওভারে মোহাম্মদ নওয়াজ ক্যাচ তুলেছিলেন তাসকিনের বলেই, এক্সট্রা কভারে স্ল্যাশ করে। কিন্তু পারভেজ হোসেন ইমন সেটা হাতে রাখতে পারেননি। এর জন্য বাংলাদেশকে অবশ্য ২৩টা রান বেশি গুনতে হয়েছে, যদিও তাসকিন নিজের শেষ ওভারে নওয়াজকে ফিরিয়েছেন, ক্যাচ ধরেছেন ইমনই। এর আগে মাহেদীর হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া মোহাম্মদ হারিস। ২৩ বলে ৩১ রান করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।


