প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আর্সেনালকে অ্যাগ্রিগেট ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে জায়গা করে নিল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। বুধবার রাতে পার্ক দে প্রিন্সে ২-১ গোলের জয়ে লুইস এনরিকের দল মিউনিখ ফাইনালে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত করল।
আগের লেগে লন্ডনে ১-০ গোলের জয় পাওয়া পিএসজি ঘরের মাঠে ছিল অনেক বেশি গোছানো। ম্যাচের মাঝামাঝি ফাবিয়ান রুইসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে হাকিমি গোল করে ব্যবধান বাড়ান, রায়া ভিটিনহার পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিলেও হাকিমির বল ঠেকানো হলো না তার।
৭৬তম মিনিটে বুকায়ো সাকার গোলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় আর্সেনাল। কিন্তু কয়েক মিনিট পর ছয় গজ দূর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়ে স্বপ্নভঙ্গ করেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। শুরুতে আর্সেনাল দারুণ চাপ তৈরি করলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পিএসজি, মাঝমাঠে ভারসাম্য আর গতির দাপটে আর্সেনালের রক্ষণে ছেদ ফেলে বারবার।
এই হারে আবারো শিরোপা-শূন্য মৌসুমে শেষ হলো মিকেল আর্তেতার আর্সেনালের। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে দলে দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকলেও, শেষ ট্রফি ২০২০ সালের এফএ কাপ। এবার লিভারপুল কোচ বদলের মুখে, ম্যান সিটির হোঁচট—সব মিলিয়ে সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পুরনো চিত্রই।
অন্যদিকে, পিএসজির জন্য এটি এক নতুন পথচলার প্রতিচ্ছবি। মেসি-নেইমার, এমবাপ্পে পর্ব শেষ। তবুও এনরিকে তরুণ ও অভিজ্ঞতার মিশেলে একটি ছন্দবদ্ধ ইউনিট গড়েছেন, যারা এবার শুধু তারকাভিত্তিক নয়—সম্পূর্ণ দলীয় শক্তিতেই ইউরোপীয় মঞ্চে দাপট দেখাচ্ছে।
লিগ শিরোপা ইতোমধ্যে নিশ্চিত। ২৪ মে কুপ দে ফ্রান্স ফাইনালে রেইমসের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর ৩১ মে মিউনিখে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল—যেখানে অপেক্ষায় ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলান।
ম্যাচশেষে এনরিক বলেন, “এটা একক ব্যক্তির নয়, দলের জয়। এখনো শেষ কাজটা বাকি। আমরা জানি আমাদের ইতিহাস গড়ার আর একটা ধাপ বাকি রয়েছে।”


