ফাঁকা গ্যালারির বিশ্বকাপ, সমালোচনার মুখে ফিফার ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’

ফাঁকা গ্যালারির বিশ্বকাপ, সমালোচনার মুখে ফিফার ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’
ছবি: ফিফা
Advertisement
Advertisement

ফিফা বিশ্বকাপের শুরুর তিনটি ম্যাচে গ্যালারির হাজারো খালি আসন এবং ফিফার ঘোষিত দর্শক সংখ্যার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গুয়াদালাহারা, টরন্টো এবং সান্তা ক্লারার ম্যাচে গ্যালারিতে স্পষ্ট ফাঁকা জায়গা থাকা সত্ত্বেও ফিফা প্রায় পূর্ণ গ্যালারির আনুষ্ঠানিক দর্শক সংখ্যা প্রকাশ করেছে।

গভর্নিং বডি ফিফা এই অসঙ্গতির ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, অফিশিয়াল দর্শক সংখ্যা মূলত স্ক্যান করা টিকিটের সংখ্যা এবং স্টেডিয়াম চত্বরের ভেতরে উপস্থিত দর্শকদের নির্দেশ করে। এটি কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে আসনে বসার দৃশ্যমান হিসাব নয়। অনেক টিকিটধারী দর্শক আসনে না বসে স্টেডিয়ামের ভেতরের চলাচলের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন বলেও ফিফা দাবি করেছে।

তবে পর্যবেক্ষকরা এই ব্যাখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। কারণ গুয়াদালাহারায় দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচে গ্যালারির বড় অংশ পুরো খেলা চলাকালে খালি ছিল। সেখানে ৪৫ হাজার ৬৬৪ আসন ক্ষমতার স্টেডিয়ামে ফিফা ৪৪ হাজার ৯৮৫ জন দর্শক উপস্থিতির কথা ঘোষণা করে।

একই চিত্র দেখা গেছে টরন্টোতে কানাডা বনাম বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ম্যাচেও। সেখানে ৪৩ হাজার ৩৬ আসন ক্ষমতার স্টেডিয়ামে ঘোষিত দর্শক সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ২ জন, অথচ নিচের গ্যালারিতে খালি আসনের ছোপ ছোপ দাগ স্পষ্ট ছিল। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেও সেখানে ১ হাজার ৬৪৫ থেকে ২ হাজার ২৪০ ডলার মূল্যের অবিক্রিত টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল।

শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় সুইজারল্যান্ড ও কাতারের ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও একই দৃশ্য দেখা যায়। ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে পূর্ব দিকের গ্যালারির খালি লাল আসনগুলোর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সমর্থকদের লাল জার্সি মিশে যাওয়ায় শূন্য অংশগুলো টেলিভিশনে আরও প্রকটভাবে ধরা পড়ে। পর পর তিন ভেন্যুতে একই চিত্র দেখা যাওয়ায় ফিফার কনকোর্সে দাঁড়িয়ে থাকার ব্যাখ্যা সমালোচকদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না।

আরও পড়ুন

এই বিতর্কের মূলে রয়েছে ফিফার ব্যবহৃত ‘ডাইনামিক প্রাইসিং মডেল’, যার কারণে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার টিকিটের খরচ পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের ‘ক্যাটাগরি ১’ টিকিটের প্রাথমিক দাম ২ হাজার ৭৩৫ ডলার ধরা হলেও ম্যাচের দিন সকালে তা ১ হাজার ১৫০ ডলারের কমে বিক্রি হয়। দাম কমায় সেই ম্যাচটি অবশ্য ৭০ হাজার ৪৯২ জনের পূর্ণ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২৯টি ম্যাচের টিকিট পুরোপুরি বিক্রি হয়েছিল। তুলনামূলক ছোট দেশগুলোর ম্যাচ শুরুর আগের দিনগুলোতেও হাজারো টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে ছিল।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য এই মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, এখন পর্যন্ত ৬০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং টিকিটের চাহিদা ছিল নজিরবিহীন। তিনি এর সঙ্গে এনবিএ ফাইনালসের টিকিটের মূল্যের তুলনা করেন।

সমালোচকরা এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, এই ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ সাধারণ সমর্থকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যাদের বিমান টিকিট, বাসস্থান ও ভিসার জন্য ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের খরচ করতে হয়েছে। আসন পূর্ণ থাকার চেয়ে স্ক্যান করা টিকিটকে দর্শক হিসেবে গণ্য করার ফিফার এই পদ্ধতি ঘোষিত সংখ্যা ও দৃশ্যমান উপস্থিতির মধ্যে পার্থক্য তৈরি করছে, যা টিকিটের মূল্য ও সহজলভ্যতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad