অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারের নতুন কর্মস্থল ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের যোগ দেওয়া ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’কে সিঙ্গাপুরভিত্তিক এমজিএইচ গ্রুপের মালিকানাধীন বলে দাবি উঠেছে।
সরকার বিলুপ্তির একদিন পরই প্রেস উইংয়ের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে দাবি করা হয়, সরকারি দায়িত্ব শেষে একদিনও বেকার থাকতে হয়নি তাদের।
এদিকে, শফিকুল আলম ও আজাদ মজুমদার নিজেরাই তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, তাদের নতুন কর্মক্ষেত্রের নাম ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’। তবে বাজারে এই নামে কোনো গণমাধ্যমের উপস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয় বলে অনলাইন আলোচনায় উঠে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নেটিজেনরা নজর দিয়েছেন এমজিএইচ গ্রুপের দিকে। এটির গ্রুপ সিইও আনিস আহমেদ গোর্কি বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্যবসায়ী যেটির প্রধান কার্যালয় সিঙ্গাপুরে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলাটি ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই বিষয়ে আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয় ‘প্রসিকিউশন প্রত্যাহারের অনুমোদন জ্ঞাপন করেছেন’ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করা হয়। একই আদেশে আনিস আহমেদকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদক তার বিরুদ্ধে ১৩৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের মার্চে কমিশন তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদনও দেয় বলে দুদক সূত্রে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ ছিল।
দুদক আদালতকে জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার সম্পদের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দুদকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে মামলা হয়েছিল এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ মেলেনি।


