আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা ও মানুষের উচ্চ প্রত্যাশার মধ্যেই দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েক প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঘিরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক কোয়ালিশন।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচনী আইনের যথাযথ, নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এতে বলা হয়, নাগরিক সমাজ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আইনের আওতায় প্রার্থিতা অনুমোদনের সময় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
নাগরিক কোয়ালিশন জানায়, গত ২২ জানুয়ারি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, একাধিক প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তাদের বিদেশি নাগরিকত্ব এবং বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে তথ্য গোপন করেছেন।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের তথ্য গোপন করা নির্বাচনী আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এই অপরাধে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন আইনগতভাবে বাতিলযোগ্য হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে এবং তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
নাগরিক কোয়ালিশন মনে করে, হাজারও প্রাণের বিনিময়ে দেশে নতুন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, গুটিকয়েক প্রার্থীর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভুল, হয়তো অনিচ্ছাকৃত সিদ্ধান্তের কারণে তা কলঙ্কিত করা ঠিক হবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এমন সিদ্ধান্ত জুলাই আন্দোলনে জীবন দেওয়া ‘শহীদদের’ আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননার শামিল হবে। কাজেই যেসব প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে নতুন ও সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে, সেসব প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচন স্থগিত করে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই আসনগুলোতে নির্বাচন কমিশন নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা নির্বাচন কমিশনের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব মনে করে নাগরিক কোয়ালিশন।
সংগঠনটি মূলত রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো সংস্কারে কাজ করা একটি সম্মিলিত নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। এর আওতায় রয়েছে ভয়েস ফর রিফর্ম, বাংলাদেশ রিসোর্স অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ইনিশিয়েটিভ (ব্রেইন) এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। এই সংগঠন নির্বাচনব্যবস্থায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করছে।
এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট নাগরিক ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন শহিদুল আলম, আইরিন খান, ফাহিম মাশরুর, শফিক রহমান এবং হাসিব হোসাইন।


