বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে সারাদেশে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার দেওয়া ৯ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতের দিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ সময় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এদিন রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং এ সময় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এছাড়া, সারাদেশে বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
অন্যদিকে, রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টি নিয়ে পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার একদিন আগে থেকেই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে ভারত। ইতোমধ্যে সোমবার প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও পূর্বাঞ্চলীয় ওডিশা রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় স্কুল ও কলেজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


