গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশে প্রধান উপদেষ্টাকে সই করতে হবে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আদেশে আমরা স্পষ্ট কিছু বিষয় দেখতে চাই। এতে “নোট অব ডিসেন্ট” (ভিন্নমত) বলে কিছু থাকবে না। সংবিধান সংস্কারে ঐকমত্য কমিশন যেসব বিষয়ে একমত হয়েছে কিংবা লিপিবদ্ধ করেছে, সেই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ গণভোটে যাবে এবং জনগণ রায় দেবে- ওই বিষয়গুলোতে সংবিধানে কোনো পরিবর্তন হবে কিনা।’
দেশজুড়ে এনসিপি’র সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীতে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
জুলাই সনদে সইয়ের মাধ্যমে বিএনপি, জামাত ও সরকারের জোটকে ‘ত্রিদলীয় জোট’ উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘৯০’র গণঅভ্যুত্থানের পরেও আমরা এমন জোট দেখেছি। এটি লোকদেখানো ঐকমত্য এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণের মন ভোলানো ছাড়া আর কিছু নয়।’
ক্ষমতায় গিয়েই এই সনদ এবং তার বাস্তবায়ন ক্ষমতাসীনরা ভুলে যাবেন মন্তব্য করে এনসিপি নেতা বলেন, ‘এই ভুল আমরা করব না। সে কারণে আমরা সনদ অনুষ্ঠানে অংশ নেইনি। আমরা সনদে সাক্ষর করিনি। জুলাই সনদ সইয়ের দিনই আমরা স্পষ্ট করেছি, সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কিভাবে হবে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সনদ কেবলই কাগজের আনুষ্ঠানিকতা, এর মূল্য কেবলই কাগজে মূল্য।’
এনসিপিও জুলাই সনদে সই করতে চায় জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘জুলাই সনদ ও ঐকমত্য কমিশনের শুরু থেকেই আমরা ছিলাম। জুলাই অভ্যুত্থানের এক দফা ঘোষণার মধ্য দিয়েই সংস্কার ও পরিবর্তনের আলাপ শুরু হয়েছে। পুরো অগ্রগতিতেই আমরা ছিলাম। ফলে আমরা অবশ্যই সংস্কার চাই, সই করার জন্যই আমরা অপেক্ষা করছি।’
জুলাই সনদের গণভোটের বিষয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘জুলাই সনদ গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে এবং এই গণভোটের আদেশ জারি করবেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তবে বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে এই ধরনের কোনো আদেশ দেওয়ার অধিকার নেই। এমনকি বর্তমান সংবিধানের আওতায় রাষ্ট্রপতিও এই আদেশ দিতে পারেন না। তার দেওয়াও বৈধ হবে না, জনগণের কাছেও বিশ্বাসযোগ্য হবে না।’
‘মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই অভ্যুত্থানের বৈধতার জায়গা থেকে এ আদেশ দেবেন এবং গণভোটের পরে সংসদের সংস্কার পরিষদ ২০২৬ সালের সংস্কৃত সংবিধানে এই সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করবে’ বলে দাবি করেন নাহিদ। সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা মাত্র এনসিপিও জুলাই সনদে সই করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এসময় দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলায় অটল থাকার বিষয়েও মন্তব্য করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘শাপলা না দেওয়া নির্বাচন কমিশনের স্বেচ্ছাচারিতা। নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই নিজেদের মনোবাসনা চাপিয়ে দিতে চাইলে আমরা ধরে নেব তারা অন্য কোনো শক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।’
‘এই নির্বাচন কমিশন স্বাধীন নয়, এই কমিশন ন্যায় বিচার করতে সক্ষম নয় এবং এই নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না, গায়ের জোরে পরিচালিত হচ্ছে’ বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ। এই ধরনের নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়েও জনগণের মনে প্রশ্ন তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।
শাপলার বিষয়ে যুক্তিযুক্ত ও আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হলে এনসিপি যেকোনো প্রতীক নিতে প্রস্তুত আছে বলেও জনগণকে আশ্বস্ত করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচনে অংশ নিতে কেবল এনসিপিকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য হিসেবে আমাদের শাপলা দেওয়া না হয় তাহলে রাজনৈতিকভাবে রাজপথে থেকেই আমাদের তা আদায় করে নিতে হবে। তবে আমরা তা চাই না, আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’


