জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে প্রথমবারের মতো বিকল্প বা ছায়া বাজেট প্রস্তাব করেছে জামায়াতে ইসলামী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ‘জনমুখী বাজেট প্রস্তাবনা’ উপস্থাপন করেছে দলটি।
প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
এ সময় জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা, ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ, কৃষি, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, স্থানীয় সরকার, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপনকালে সাইফুল ইসলাম খান মিলন বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম জাতির সামনে একটি বিকল্প বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জামায়াতের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়; বরং ন্যায়বিচার, সুশাসন ও সমতার ভিত্তিতে একটি মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থানমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও শিল্পোন্নয়ন সহায়ক বাজেট প্রণয়ন প্রয়োজন, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দুর্নীতিকে দেশের অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে তিনি আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মুদ্রা পাচার রোধ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে করজাল সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের অটোমেশন এবং দুর্নীতি কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সর্বনিম্ন করযোগ্য আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।


