রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য পূর্বে ঘোষিত অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধাও বহাল থাকবে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক যৌথ আলোচনায় এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
শিশির মনির জানান, উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি ও মানবিক দিক বিবেচনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এই সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর আগে শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে আজীবন থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
পূর্বঘোষিত সুযোগ-সুবিধার আওতায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা (বাবা, মা, ভাই ও বোন) আজীবন আদ-দ্বীন হাসপাতালে ওষুধ ছাড়া অন্য সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে পাবেন।
এ ছাড়া তাদের পরিবারের সদস্যরা আদ-দ্বীন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করলে বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ বৃত্তি বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারের উপযুক্ত সদস্যদের আদ-দ্বীন গ্রুপে চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।
পরে এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং অক্সিজেনের স্বল্পতা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে নবজাতকগুলোর মৃত্যু ঘটে। একইসঙ্গে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
নবজাতক মৃত্যুর এই ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনও দায়ের করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল।


