পোস্টাল ব্যালট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, বৈঠকে কমিশনের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে প্রবাসী ভোটারদের জন্য চালু করা পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া ছিল প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসা থেকে একসঙ্গে ২০০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে; যা উদ্বেগজনক।
সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, কিছু স্থানে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং অন্য ভোটারের পরিচয় নম্বর ব্যবহার করে পোস্টাল ব্যালট নেওয়া হয়েছে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কিছু আইনি ও আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে নির্বাচন কমিশনে এসেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা আইনগত কিছু পয়েন্ট এবং আচরণবিধির কয়েকটি বিষয় কমিশনকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া আরও কিছু বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে।’
প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিএনপি আগে থেকে আপত্তি জানালেও বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন জানান, যারা পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। পাঠানো ব্যালটগুলো বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে প্রকাশ পাচ্ছে, যোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া প্রবাসীদের ভোটদানের এই পদ্ধতি প্রথমবারের মতো কার্যকর হচ্ছে বলে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে, জানান তিনি। তবে এতে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রবাসীদের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে কীভাবে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, ভোট কীভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কিছু জায়গায় একসঙ্গে ২০০ থেকে ৩০০ ব্যালট কীভাবে পাওয়া গেলে তার ব্যাখ্যা কী।’
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে, সেটিও দেখার বিষয়।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে। ‘কমিশনের অনুরোধে আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর স্থগিত করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক সফর ছিল না। অথচ কিছু রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য বা ভিডিও প্রকাশিত হলেও কমিশন নির্বিকার রয়েছে। আশা করি তারা বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধান করবে’ বলেন তিনি।
পোস্টাল ব্যালটের কাঠামো নিয়েও একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। সালাহউদ্দিন জানান, পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হবে। তাই তাদের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যে কয়জন প্রার্থী থাকবে, তাদের নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার হয়, সেটিকেই পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হোক।
সব আসনের সব প্রতীকসহ ব্যালট পাঠানোর প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন বিএনপির এই প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে গ্রহণ করবে বলেও আশাবাদী তিনি।


