রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে সম্ভাব্য বৈঠক স্থগিত করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিকট ভবিষ্যতেও ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ ‘অর্থহীন বৈঠক’ নিয়ে আর ‘সময় নষ্ট’ করতে চান না ট্রাম্প।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহেই পুতিনের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলাপ করেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যেই বুদাপেস্টে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকের সম্ভাবনা থেকেই ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেও যুদ্ধের জন্য ‘টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র’ দিতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, বুদাপেস্টের সম্ভাব্য বৈঠকের আগেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে চাপ দিচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে সেই যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটন-মস্কো বিপরীত অবস্থানই এ বৈঠক স্থগিত হওয়ার প্রধান কারণ।
ট্রাম্পের ধারণা, পুতিন কেবলই সময় ক্ষেপণ করছেন, আদতে তিনি যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নন। কাজেই ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আর পুতিনের অপেক্ষায় থাকতে চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এর আগে, গত আগস্টে আলাস্কায় সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প-পুতিন। অবশ্য সে বৈঠক থেকেও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে তেমন কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি।
সম্প্রতি কিয়েভ এবং ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থিত এক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবেও সমর্থন জানান ট্রাম্প। জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান ফ্রন্টলাইনেই (যে পর্যন্ত যুদ্ধ গড়িয়েছে) সংঘাত থামানোর আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘যেভাবে আছে, সেভাবেই রেখা টেনে দাও। যুদ্ধ থামাও, রক্তপাত বন্ধ কর। যুদ্ধে কেবলই মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।’ এমনকি ইউক্রনকে রাশিয়ার কাছে যুদ্ধে হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার থেকেও নিরুৎসাহিত করেন তিনি।
কিয়েভ প্রথমদিকে তাতে আপত্তি জানালেও ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হারানো অঞ্চল রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিয়ে যুদ্ধ থামাতে আগ্রহের কথা জানায়। ইউরোপীয় নেতারাও ট্রাম্পের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন। জেলেনস্কির সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার ভিত্তি হওয়া উচিত- এখানেই সংঘাত থামিয়ে দেওয়া। তবে যুদ্ধ বন্ধে অবশ্যই রাশিয়ার সদিচ্ছার ঘাটতি আছে।’
এদিকে রাশিয়া এই প্রস্তাব একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেন থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং দনবাস অঞ্চলে রুশ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির শর্তে অটল থাকবে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ‘মস্কো কেবল “দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তিতে” আগ্রহী, সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে নয়।’


