আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে হেরে সিরিজ খুইয়ে বসেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার আবু ধাবি শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া শেষ ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজদের লক্ষ্য তাই হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। সেবারও অধিনায়ক ছিলেন মিরাজ, তবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে। অবশ্য পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পেয়েও ভাগ্য বদল করতে পারেননি এই অলরাউন্ডার।
এই সিরিজে ব্যাটারদের ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো, তবে বোলাররা বিশেষত পেস ইউনিট ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ওয়ানডেতে ২২১ রান করে বাংলাদেশ হেরেছে ৫ উইকেটে। কিন্তু ১৬৯ ডট বল খেলা ছিল ম্যাচ হারার অন্যতম কারণ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের ব্যাটিং ধস ছাপিয়ে গেছে আগের ম্যাচের ব্যর্থতাকেও। লক্ষ্য ছিল ১৯১, সেটা তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৯ রানে। ১৭ রানে একাই ৫ উইকেট নেন রশিদ খান।
হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে রশিদ ছাড়াও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ থাকবে নতুন বলে আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে ঠেকানো। দুই ম্যাচে ছয় উইকেট নিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার এবং সিরিজ জুড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকেও দারুন ভুগিয়েছেন তিনি।
এর সাথে বাংলাদেশের জন্য শংকার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নাম্বার থ্রি পজিশনে নাজমুল হোসেন শান্তর ফর্ম। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে ৭৭ রানের পর তার শেষ পাঁচ ইনিংসে রান এসেছে যথাক্রমে ২৩, ১৪, ০, ২ এবং ৭। এর প্রভাবে চাপ বেড়েছে মিডল অর্ডারে। তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী মিরাজ, জাকের আলী, নুরুল হাসান সোহানদের ব্যাটেও সেভাবে রান আসেনি। ব্যাটিং অর্ডারে ভারসাম্য ফেরাতে শামীম পাটোয়ারীকে ফেরানো হতে পারে এই ম্যাচের একাদশে।
অবশ্য টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেই আফগানদের ব্যাটিং অর্ডারের সমস্যা নজরে এসেছে সবার। বিশেষত বাঁহাতি স্পিনার ও পেসারদের বিপক্ষে রীতিমতো সংগ্রামই করেছেন আফগান ব্যাটাররা।
সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সামগ্রিম ফর্ম পড়তির দিকে। শেষ আট ওয়ানডে সিরিজের মধ্যে জিতেছে মাত্র একটিতে, তাও ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে।


