চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সোমবার এক রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর চীনের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

দুই দিনের এই সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এর সঙ্গে বৈঠক করবেন শি। গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে সর্বশেষ শীর্ষ বৈঠকের পর এটিই দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি আলোচনা। ওই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-ও উপস্থিত ছিলেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি-র সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা কাই চি।
এপি-র খবরে বলা হয়, সফরে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাদা কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে দুই দেশ তাদের জোটকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কোনো নেতা শুধু আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য উত্তর কোরিয়া সফর করেন না। শি-র এই সফরের বাস্তব কূটনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার ওপর চীনের প্রভাব প্রদর্শন করা শি-র জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হতে পারে। গত মাসে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পুতিনের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন শি জিনপিং। আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার আরেক দফা বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সহযোগী ও কূটনৈতিক সমর্থক। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর না করে এবং বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে বেইজিং পিয়ংইয়ংকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে। চলতি বছর দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ৬৫ বছর পূর্তি হচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কোকে সেনা ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার বিনিময়ে পিয়ংইয়ং অর্থনৈতিক ও সামরিক সুবিধা পেয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ওপর একক প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারেন শি জিনপিং।
সোমবার উত্তর কোরিয়ার সরকারি দৈনিক রদোং সিনমান-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে শি জিনপিং বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়াকে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করতে হবে এবং ‘আধিপত্যবাদ ও জবরদস্তিমূলক রাজনীতির’ বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সফরে শি উত্তর কোরিয়াকে চাল, সারসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সহায়তা, চীনা পর্যটকদের পুনরায় ভ্রমণের সুযোগ এবং যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্পের প্রস্তাব দিতে পারেন।
অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার জন্যও চীনের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে প্রকাশ্যে চাপ সৃষ্টি করবেন না। পরিবর্তে তিনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরতে পারেন।


