নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের নারী অধিকারকর্মীরা।
রোববার ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় র্যালি শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন তারা। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
সমাবেশে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, এনপিএ, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ফুলকি, বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র ও নারীপক্ষসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। এ ছাড়া নারী অধিকারকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি শফিকুর রহমান তার ভ্যারিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা নারীদের প্রতি চরম অবমাননা এবং শ্রমজীবী নারীদের অবদানকে অস্বীকারের শামিল।
পরবর্তীতে দলের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাকিং’-এর দাবি করা হলেও ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য বা স্বচ্ছ তদন্তের ফল এখনো জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়নি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়, ‘হ্যাকিং’ অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতে ‘হ্যাকিং’-সংক্রান্ত দাবি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত শ্রমজীবী নারীরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। তাদের অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
নারী অধিকারকর্মীরা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা ও বৈষম্যের সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের আসনে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অগ্রহণযোগ্য।
স্মারকলিপিতে অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার দাবি করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।


