খাগড়াছড়িতে নিউমোনিয়ায় ১২ শিশুর মৃত্যু

খাগড়াছড়িতে নিউমোনিয়ায় ১২ শিশুর মৃত্যু
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরা। ছবি: টাইমস।
Advertisement
Advertisement

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০ দিনের ব্যবধানে ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের সময়ে আবহাওয়াজনিত নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে জেলাটিতে। ফলে জ্বর-সর্দি-কাশিসহ নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে, যাদের বেশির ভাগই শিশু।

জেলা সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে নানা রোগে আক্রান্ত প্রায় সহস্রাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এসব আক্রান্ত শিশুর বেশির ভাগের বয়স ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে। ২০ দিনের ব্যবধানে নিউমোনিয়ায় ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

খাগড়াছড়িতে এখন দিনের বেলায় গরম থাকলেও শেষ রাতের দিকে শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ঠান্ডার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়ছে দুর্গম এলাকার মানুষেরা। এমন সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুর বাড়তি যত্নের পাশাপাশি নিউমোনিয়া প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে নানা রোগ নিয়ে হাসপাতালের শিশু ওর্য়াডে ধারণ ক্ষমতার চারগুণ বেশি শিশু রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। ১৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রায় সবসময় অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন, কখনো আরও বেশি শিশু ভর্তি থাকছে। শয্যা সংকটের কারণে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে অনেকে। এছাড়া প্রতিদিন বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে আরও কয়েকশ রোগী।

আরও পড়ুন

খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওমর ফারুক জানান, ঋতু পরিবর্তনের কারণে নবজাতক ও শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। ঠান্ডার কারণে সামনে রোগীর চাপ আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এসময় শিশুদের সুস্থ রাখতে দরকার বাড়তি যত্ন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, ‘চলতি মাসের শুরু থেকে নিউমোনিয়ার রোগী বেড়ে যাওয়ায় মূলত চাপ তৈরি হয়েছে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি, তারপরও নিউমোনিয়ায় ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

খাগড়াছড়ি ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নত করা হলেও এখনো ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে এর কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ চিকিৎসকদের। বর্তমানে ৫৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে হাসপাতালে ১৮ চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এ কারণে রোগীর সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসা নিশ্চিতে বেগ পোহাতে হচ্ছে।

জেলার বাসিন্দারা দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসক ও লোকবল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad