পিএসকে বরখাস্ত করলেন জামায়াতের ‘অপরিপক্ক’ এমপি

পিএসকে বরখাস্ত করলেন জামায়াতের ‘অপরিপক্ক’ এমপি
আতাউর রহমান বাচ্চু। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

মেয়ের নামে অনুদান দেওয়ার ঘটনায় পিএসকে বরখাস্ত করলেন জামায়াতের ‘অপরিপক্ক’ এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু।

ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান মঞ্জুরির একটি তালিকায় তার মেয়ের নাম দুইবার উল্লেখ থাকার কারণে তিনি ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করেছেন।

দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বলা হয়, বরখাস্তের আদেশ রোববার থেকেই কার্যকর হবে। সংসদ সদস্য আতাউর তার ফেসবুকে নিজের সই করা এই চিঠি পোস্ট করেছেন।

আতাউরের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দুস্থদের মধ্যে টাকা বিতরণের জন্য যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, তাতে তার মেয়ের নাম দুই জায়গায় রয়েছে। তবে সেখানে পুরো নাম না লিখে কেবল ডাকনাম দেওয়া হয়েছে এবং বাবার নামও দুই জায়গায় আলাদা করে লেখা হয়েছে।

তালিকায় এমপি-কন্যা ফাইজার নাম ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে এবং দুই জায়গাতেই ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। তার পুরো নাম নুজহাত তাবাসসুম ফাইজা। তালিকার শুরুতে ফাইজার বাবার নাম দেওয়া আছে ‘মো. বাচ্চু’ এবং ৮ নম্বরে দেওয়া আছে ‘মো. আতাউর’। অর্থাৎ, জামায়াত এমপির নামের দুই অংশ দুই জায়গায় আলাদাভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য এই ঘটনার পুরো দায় তার ব্যক্তিগত সহকারীর ওপর চাপিয়ে টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, তিনি নতুন এমপি এবং এখনো ‘ম্যাচিউরড’ (পরিপক্ক) হতে পারেননি। এ কারণে কীভাবে কী হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

আরও পড়ুন

জামায়াত নেতার দাবি, ফেব্রুয়ারিতে শপথ নেওয়ার পর তার পিএস তাকে বলেন যে স্বেচ্ছাধীন তহবিলের টাকার জন্য নাম দিতে হবে। তখন তিনি ইউনিয়ন ও উপজেলায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে নাম দেওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি আরও দাবি করেন, ‘কিন্তু সে (পিএস) বলে, এত সময় হবে না। আজকে দিনের মধ্যে দিতে বলেছে। এটা বলার পর বললাম, কিছু চেনাজানা নাম দিয়ে দাও। তখন আমার মেয়ের নাম দিয়েছে, আরও অনেকের নাম দিয়েছে।’

এমপির দাবি, তিনি ঢাকায় কয়েকটা প্যাডে সই করে রেখেছিলেন এবং সেই প্যাডে প্রিন্ট দিয়েই তালিকা জমা দিয়েছেন তার পিএস।

তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি এ রকম যে হবে বুঝিনি, জানিওনি। আমি এখনো ম্যাচিউরড হইনি, কেবল সংসদ সদস্য হয়েছি।’

গত ১৮ জুন সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে আতাউরের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ১০ জনের নামে অনুদানের মঞ্জুরিপত্র দেওয়া হয়।

তালিকায় মেয়ের নাম থাকার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর জামায়াত এমপি বলছেন, তিনি প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করবেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি নতুন তালিকা পাঠানো হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad