‘পাহাড়ে বিচারহীনতা ধর্ষক ও নিপীড়কদের বাড়াচ্ছে, রাষ্ট্র তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে,’ এমন অভিযোগ করেছেন ‘আদিবাসী ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে প্রতিবাদী সমাবেশের বক্তারা। খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণির এক পাহাড়ি স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘মারমা জাতিগোষ্ঠীর ওই কিশোরীকে তিন সেটেলার ধর্ষণের বিষয়ে মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল’-এর প্রার্থী সুর্মী চাকমা বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও কি দেখেছেন ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য প্রতিবাদকারীকে আটক করা হয়? বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় আইনি নোটিশ ছাড়াই খাগড়াছড়ি থেকে এক নেতাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে পাহাড়িরা বিক্ষোভ করলে বাধ্য হয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) শান্তিময় চাকমার সঞ্চালনায় সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের (বিএমএসসি) নুমংপ্রু মারমা। বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, পিসিপি, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী।
এদিন বিকালে রাঙামাটি শহরের রাঙাপানি এলাকায় ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী বক্তব্যে চাকমা রাজা (সার্কেল চিফ) ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, ‘বিচারহীনতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে বহু বছর ধরে পাহাড়ি নারী ও শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন।’
খাগড়াছড়িতে শিক্ষার্থী ধর্ষণের ওই ঘটনায় পার্বত্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছে বিভিন্ন সংগঠন। ঢাকাতেও পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়িতে আধাবেলার সড়ক অবরোধও হয়েছে।


