পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা

পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা
বুধবার সকাল ৯টায় ঢাকার ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে এই কর্মশালাটি সম্পন্ন হয়। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘অনাবাদী পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও অবহিতকরণের লক্ষ্যে একটি জাতীয় পর্যায়ের সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ৯টায় ঢাকার ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে এই কর্মশালাটি সম্পন্ন হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মির্জা আশফাকুর রহমান, সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খান এবং কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. আবদুল্লাহ সালাদ।

কর্মশালায় দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯২টি উপজেলার কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালায় বক্তারা জানিয়েছেন, দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অনাবাদী জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়, যা বর্তমানে সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্যাঁতসেঁতে জমিতে কচু জাতীয় সবজি চাষ প্রদর্শনী ৭ হাজার ৩৮০টি, ছায়াযুক্ত স্থানে বস্তায় আদা বা হলুদ চাষ প্রদর্শনী ২০ হাজার ১৮৮টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুষ্টিবাগান ৯৮৪টি, মরিচ চাষ প্রদর্শনী ৪৬ হাজার ৭০৭টি এবং পারিবারিক পুষ্টি বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনঃস্থাপন প্রদর্শনী ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮৫টিসহ সবজি ও মসলা ফসলের মোট ৫ লাখ ৩৭ হাজার ২২টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ১৪২টি কমিউনিটি বেইজড ভার্মিকম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন পিট স্থাপন করা হয়েছে।

বক্তারা প্রকল্পের অর্জন তুলে ধরে আরও জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৫৯ দশমিক শূন্য ৬ হেক্টর অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হয়ে অতিরিক্ত আরও ১ হাজার ৮০০ হেক্টর অনাবাদী জমি আবাদের আওতায় এনেছেন।

প্রকল্পের সুবাদে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৭৫২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন শাকসবজি ও আদা-হলুদ উৎপাদিত হয়েছে, যার আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় ২ হাজার ১৮১ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ২৭০ টাকা। পাশাপাশি মোট ২১ হাজার ৪২৬ দশমিক ৩৭২ মেট্রিক টন জৈব ও কেঁচো সার উৎপাদিত হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ৬৪০ টাকা। উৎপাদিত ফসল ও সারের মাধ্যমে প্রকল্পের মোট আর্থিক অর্জন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ২১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ টাকা।

প্রধান অতিথি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কৃষির টেকসই উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। এই প্রকল্প থেকে অর্জিত শিক্ষা ও সফল মডেলসমূহ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা হবে, যা দেশের কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্প এলাকার মানুষ পুষ্টি বিষয়ে যে বাস্তব জ্ঞান লাভ করেছে, তা তারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখবেন।

কর্মশালায় নারীদের অংশগ্রহণকে এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বক্তারা এই সফলতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় ভবিষ্যতে এই আদলে নতুন প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad