বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ মূলত জাতীয় উন্নয়ন, নতুন উদ্ভাবন এবং মানুষের কল্যাণের পেছনেই বিনিয়োগ। একটি সফল পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার জন্য শুধু উন্নত প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সর্বোপরি নিরাপত্তা ও সুরক্ষার একটি সুদৃঢ় সংস্কৃতি।
শুক্রবার পাবনার ঈশ্বরদীতে স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের সভাকক্ষে ‘নিউক্লিয়ার এনার্জি: স্ট্র্যাটেজি, রিয়েলিটিজ অ্যান্ড বাংলাদেশ’ পাথ ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত গোলটেবিল আলোচনা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি (ফুয়েল) লোড করার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সাফল্যই ছিল না, বরং এটি ছিল একটি যুগান্তকারী জাতীয় মুহূর্ত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত ও পরিশীলিত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশগুলোর কাতারে শামিল হতে পেরেছে।
পারমাণবিক শক্তির বহুমুখী সুবিধা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এই শক্তি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বড় পরিসরে নির্ভরযোগ্য ও কম-কার্বনযুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে। অন্যান্য জ্বালানি উৎসের মতো এটি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্পখাতের বিকাশ এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বে বড় অবদান রাখবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোদমে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ক্যান্সার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায়, উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিতে, শিল্পখাতে, খাদ্য ও পানি ব্যবস্থাপনায় এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পারমাণবিক বিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সময় মন্ত্রী দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর আরও বেশি জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইন্টারন্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সির সহযোগিতায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. কবির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে পারমাণবিক বিদ্যুৎ বিষয়ক মূল প্রবন্ধ ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান এম মঈনুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক (এনএসপিসি) ব্রিগেডিয়ার রোবায়েত।


