ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন সাত দিনের মধ্যে দেওয়া না হলে সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে সরকার। শুক্রবার বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের পাশাপাশি এই সতর্কতাটিকে সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী বাস্তবায়ন অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রসারকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের বিষয়ে সরকারের কোনো আপস নেই। অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন দূর করতে না পারলে দেশি বা বিদেশি কোনো বিনিয়োগকারীই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবেন না। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে চায় যার অধীনে সাত দিনের মধ্যে লাইসেন্স ও অনুমোদন দেওয়া হবে। যদি এর চেয়ে একদিনও বেশি সময় লাগে, তবে তার জন্য কাউকে না কাউকে জবাবদিহি করতে হবে। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে নীতি ঘোষণা এবং তা বাস্তবায়নের মধ্যে রয়ে যাওয়া ব্যবধান নিয়ে সরকারের ভেতরের হতাশারই প্রতিফলন ঘটেছে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ এখনো এমন কিছু অদৃশ্য খরচের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে যা কর এবং অফিশিয়াল ফির চেয়েও অনেক বেশি। উদ্যোক্তারা প্রায়ই দীর্ঘসূত্রতা, বারবার নথিপত্র জমা দেওয়া, একই কাজের জন্য একাধিক অনুমোদন এবং প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হন, যা ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।
বাজেট বক্তব্য ও সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীরা এই অদক্ষতাগুলোকে ধীরগতির বিনিয়োগ, দুর্বল প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং ভোক্তাদের জন্য উচ্চ মূল্যের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ওপর নজরদারি করতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকরা যেন বিলম্ব, হয়রানি ও নিয়ন্ত্রণমূলক বাধাগুলোর বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য একটি ডেডিকেটেড অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে।
এ ছাড়া, একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড সিস্টেমের মাধ্যমে প্রকল্প ও অনুমোদনগুলো পর্যবেক্ষণ করার পরিকল্পনা করছে সরকার, যার ফলে প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা সরাসরি এর বাস্তবায়ন ট্র্যাক করতে পারবেন। এই পুরো ব্যবস্থাটি বাজেটে রূপরেখা দেওয়া ব্যাপক নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ কর্মসূচিরই একটি অংশ, যার মধ্যে রয়েছে কর ও ভ্যাট প্রশাসনের স্বয়ংক্রিয়করণ, দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং ডিজিটাল সেবার ব্যাপক ব্যবহার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়িয়ে দেওয়া প্রশাসনিক বাধাগুলো দূর না করে বাংলাদেশ উচ্চ বিনিয়োগ, শক্তিশালী কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।


