পাবনায় ভ্যান ছিনতাই করতে ইমরান হোসেন (১৭) নামে এক ভ্যানচালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার ভোরে চাটমোহর উপজেলা থেকে ইমরানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ইমরানের চাচাতো ভাইসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত ইমরান উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে।
ইমরানের স্বজন সাদ্দাম হোসেন জানান, শুকুরভাঙ্গা এলাকা থেকে বুধবার সন্ধ্যায় ইমরান হোসেনের অটোভ্যানটি ভাড়া নেয় তার চাচাতো ভাই সুমন হোসেন। এ সময় হেলালসহ আরও দুইজনও অটোভ্যানটির যাত্রী ছিল।
অটোভ্যান নিয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করে তারা। পরে আনুমানিক রাত দশটার দিকে রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকায় ভ্যান ও মোবাইল ছিনতাইয়ের উদ্দেশে প্রথমে ইমরানকে মারধর করা হয়। পরে সুমন ও বাকি দুই যাত্রী ইমরানকে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
তিনি আরও জানান, পরিবারের লোকজন ইমরানকে খুঁজে না পেয়ে এলাকার বাজারে এসে জানতে পারে, তিন ব্যক্তিকে নিয়ে ভাড়ায় গেছে সে। পরে স্বজনরা খোঁজ নিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সুমনের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে সুমন ও তার সহযোগীদের বিভিন্ন কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হলে ওই তিনজনকে আটক করে চাটমোহর নিয়ে আসে এলাকাবাসী।
পরে স্বজন ও এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা ইমরানকে মেরে শ্মশান এলাকায় ফেলে রাখার কথা স্বীকার করে। বুধবার রাতেই চাটমোহর থানা পুলিশে খবর দেয় পরিবারের লোকজন।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘ভোরে ঘটনাস্থল মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। একই সময় অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।


