পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নিশি রহমানকে (৩৮) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে ঈশ্বরদী থানা থেকে পাবনার আমলী আদালত-২-এ পাঠানো হয়েছে বলে জানান জিআরও রফিকুল ইসলাম।
শুনানি শেষে আদালতের বিচারক তরিকুল ইসলাম তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। আগামী রোববার এ মামলার পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করা হয়েছে।
আসামি নিশি রহমান ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী।
এর আগে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় এ মামলা করেন বলে জানান ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর।
পরে রাত দেড়টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত একমাত্র আসামি নিশি রহমানকে রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার বিকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
‘প্রাথমিক তদন্ত ও আসামির জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, কুকুরের ডাক-চিৎকারে বিরক্ত হয়ে নিশি রহমান ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরপাড়ে রেখেছিলেন। তবে, কে বা কারা পুকুরে ফেলে দিয়েছে সেটি তিনি জানেন না। আমরা ঘটনাটির আরও তদন্ত করে দেখছি’ বলেও জানান পুলিশ সুপার।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের একটি কোণায় আশ্রয় নিয়েছিল টম নামে একটি মা কুকুর। এক সপ্তাহ আগে টম আটটি বাচ্চা প্রসব করে।
সোমবার সকালে তার ছানাগুলো না পেয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে দেখা যায় টমকে। পরে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীরা জানতে পারেন, অভিযুক্ত নিশি জীবন্ত আটটি কুকুর ছানাকে বস্তায় বেঁধে রোববার রাতের কোনো একসময় উপজেলা পরিষদের পুকুরে ফেলে দেন।
এক দিন পর সোমবার সকালে কুকুর ছানাগুলোর মরদেহ পাওয়া যায়। দুপুরের পর মৃত কুকুর ছানাগুলোকে ইউএনওর বাসভবনের পাশে মাটি চাপা দেওয়া হয়।


