আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়াকড়িভাবে জাতীয় লবণ নীতি মেনে চলছে সরকার। এর অংশ হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র না থাকায় পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ২৮ টন খনিজ লবণ খালাস করতে দেয়নি চট্টগ্রাম কাস্টমস। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এই লবণের চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে আছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ‘ওয়ার্দা অ্যান্ড জুবায়ের অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পাকিস্তানের ‘পিক মিনারেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে এই লবণ আমদানি করে। গত ৪ মে একটি কনটেইনারে করে এই পণ্য বন্দরে আসে।
এরপর ‘তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লবণ খালাসের জন্য কাগজ জমা দেয়। কিন্তু কাগজপত্রের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি বা ছাড়পত্র না থাকায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ লবণ খালাস করতে রাজি হয়নি।
এই চালানের ১ হাজার ১২০টি বস্তায় মোট ২৮ টন খনিজ লবণ রয়েছে। কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, এই লবণের দাম ছিল ৬ হাজার ৪৪০ মার্কিন ডলার। এই চালানের ওপর কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়করসহ সব মিলিয়ে সরকারের মোট শুল্ক ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৫ টাকা ৯৭ পয়সা। এই আমদানির জন্য ব্যাংকের সব কাজ করা হয়েছে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে কল করলেও তিনি ধরেননি, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েও কোনো উত্তর মেলেনি।
এ ছাড়া সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ আবসার এবং এই চালানের সাথে জড়িত কর্মকর্তা আকবর চৌধুরীও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
দেশের নতুন লবণ নীতি অনুযায়ী, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে থেকে অপরিশোধিত লবণ আনা নিষেধ। যেকোনো ধরনের লবণ দেশে আনতে হলে আগে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ বা অনুমতিপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। মূলত দেশের লবণ শিল্প ও স্থানীয় চাষিদের বাঁচাতে এবং দরকার ছাড়া বিদেশি পণ্য আনা কমাতে এই নিয়ম করা হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার তৌহিদা ইসলাম জানান, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সোডিয়াম ক্লোরাইড বা এই জাতীয় লবণ আমদানির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবেই।
তিনি বলেন, নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে আইন অনুযায়ী চালানটি ছেড়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আগে এই ধরনের পণ্যকে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে সহজে খালাস দেওয়া হতো। কিন্তু চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল থেকে কাস্টমস এই নিয়ম খুব কড়াভাবে মানা শুরু করেছে। এখন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কোনো লবণের চালানই বন্দর থেকে ছাড়ানো যাচ্ছে না।
বাংলাদেশে এই খনিজ লবণ সাধারণত হিমালয়ান পিঙ্ক সল্ট নামে পরিচিত। এটি খাবার, মসলা, আচার, ভেষজ ও ইউনানি ওষুধ এবং প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আজকাল রেস্তোরাঁ ও স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে দেশে এখন প্রচুর লবণ উৎপাদন হচ্ছে। তাই দেশি শিল্পকে বাঁচাতে সরকার বিদেশি খনিজ লবণ আমদানির ওপর কড়াকড়ি বাড়িয়েছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, এই লবণের ওপর বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাসে দেশে ৬২৮ টনের বেশি খনিজ লবণ আমদানি হয়েছিল। তবে এই বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কোনো খনিজ লবণ আমদানি হয়নি।


