বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে আসন্ন ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দেওয়া অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি সামনে একটি গণভোট হচ্ছে। সেই গণভোট যেন অতীতের মতো না হয়, সরকারও যেন অতীতের মতো না চলে, কর্মকাণ্ডও যেন আগের মতো না হয়; সেগুলো থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে জনগণকে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে হবে। এটা মাস্ট।’
মঙ্গলবার বিকালে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রয়োজনীয় সংস্কার না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘হ্যাঁ ভোটে সিল না দিলে এত রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে, তা আমরা হারাব।’
স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন জানান, সারা বাংলাদেশেই ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী চলাচল কমে গেছে। আগে বেনাপোল দিয়ে দৈনিক হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করলেও এখন তা নেমে এসেছে ৩০০-৪০০ জনে।
নানাবিধ কারণে ভারতের ভিসা না দেওয়াকে এর প্রধান কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখান থেকেও ভিসা কম দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।’
এ ছাড়া নির্বাচন শেষে নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে এই পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলেও আশস্ত করেন উপদেষ্টা। একই সঙ্গে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বেসরকারি পোর্ট অপারেটরের মেয়াদ শেষ হলে সরকার এ বন্দর নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা নিতে পারবে জানান তিনি।
আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের উপমহাদেশীয় সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক একেক দেশের ক্ষেত্রে একেক রকম। ফলে এখান থেকে সরাসরি সড়কপথে চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য নয়, কারণ মাঝখানে অন্য দেশের ওপর দিয়ে যেতে হয়।’
এ সময় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশে মোট ২০টি স্থলবন্দর রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসেছি। স্থলবন্দরগুলো নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি, আগামী সরকার এসে তাদের মতো করে এসব বাস্তবায়ন করবে।’
পরে উপদেষ্টা পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা সভায় যোগ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামসহ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


