দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানির সংকট নিরসনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এবং উত্তরাঞ্চলের তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সারা দেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচি, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং বড় প্রকল্পগুলোর কারিগরি ও সমীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এটি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল।
বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ২৪টি জেলার কৃষি, মৎস্য চাষ এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখতে এই প্রকল্প যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। এ ছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং এর ফিজিবিলিটি স্টাডি আরও গভীরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
চাঁদপুর ও ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
চলমান খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী জেলা সফর করবেন। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এই দুই জেলায় নতুন খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি।
আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মে মাস পর্যন্ত পুরোদমে খনন কাজ চলবে। বর্ষার বিরতি দিয়ে আগামী নভেম্বর থেকে আবারও কাজ শুরু হবে।
কৃষকদের সেচ সংকট নিরসনে ছোট-বড় নদী ও খাল পুনখননকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে বিভিন্ন জেলা সফরে গিয়ে এই কর্মসূচিগুলো তদারকি করছেন এবং সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।


