পণ্য খালাস না করে সংকট তৈরির চেষ্টা, ১৩ জাহাজকে জরিমানা

পণ্য খালাস না করে সংকট তৈরির চেষ্টা, ১৩ জাহাজকে জরিমানা
আগারগাঁওয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী কথা বলেন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে খালাস না করে পণ্য জাহাজে আটকে রাখার অভিযোগে ১৩টি জাহাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এ ঘটনায় জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার বিকেলে আগারগাঁওয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। তিনি বলেন, ‘আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যেখানে পণ্য গুদামজাত করা হয়েছে, সেখানে নিয়মিত অভিযান চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ায় জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী মাদার ভেসেলের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে ১১০টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজ ৩৬টি এবং অন্যান্য জাহাজ ৭৪টি। গত বছর রমজানে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৪৩টি। তবে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথমার্ধেই এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১টিতে।

হঠাৎ করে জাহাজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় লাইটার ভেসেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও বর্তমানে সে সংকট নেই বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ২ হাজার ২৫৮টি লাইটার ভেসেল অভ্যন্তরীণ নৌরুটে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে।’

আরও পড়ুন

শফিউল বারী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সহায়তা দিচ্ছে। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, মুন্সীগঞ্জের মেঘনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং যশোরের নোয়াপাড়ার ভৈরব নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৭ দিনে ৪০৯টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯২টি জাহাজ ১০ দিনের কম, ৮৭টি ১০ দিনের বেশি এবং ৩০টি ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। ১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন নদীবন্দর পরিদর্শনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে যশোরের নোয়াপাড়া পর্যন্ত সব ঘাটে বর্তমানে দ্রুতগতিতে পণ্য খালাস চলছে।

বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) জানিয়েছে, গত ১৫ দিনে ৭৩৫টি লাইটার জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত ৩০ জানুয়ারি থেকে লাইটার ভেসেল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ও লাইটার জাহাজ বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
তবে অনেক ঘাটে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পণ্য খালাস হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক। এ সমস্যা সমাধানে স্বয়ংক্রিয় ক্রেনের মাধ্যমে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর জানিয়েছে, লাইটার জাহাজের সংকট পুরোপুরি নিরসন না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান এবং ডিজিটাল তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad