এবার বাংলাদেশের জলসীমায় এসে দিনদুপুরে নৌকা ও জালসহ সাতজন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) সদস্যরা। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীর মোহনা থেকে পৃথকভাবে দুটি নৌকাসহ তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় একটি নৌকাসহ তিনজন মাঝিমাল্লাকে এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই এলাকা থেকে আরেকটি নৌকাসহ চারজন জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির সদস্যরা।
অপহৃত জেলেরা হলেন— মো. আবুল কালাম (৫০), মো. ছাদেক (৩০), আবদুর শুকুর (৪০), মো. রবি আমল (১১), মঞ্জুর আলম (২৭), মো. রাসেল (১৮) এবং মো. শরিফ (১২)। তারা টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের জালিয়া পাড়া ও দক্ষিণ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নদীতে মাছ ধরার সময় একটি নৌকাসহ তিন মাঝিমাল্লাকে এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরেকটি নৌকাসহ চার মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির সদস্যরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আরাকান আর্মির কারণে নাফ নদী ও সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ট্রলারসহ জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে ও নৌকার মালিকদের দুর্দিন নেমে আসবে।’
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, ‘আমাদের ঘাটের দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে সাত জেলে নাফ নদীর মোহনায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় স্পিডবোট দিয়ে ধাওয়া করে তাদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির সদস্যরা।’
তিনি জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় জেলে ও নৌকার মালিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার দুইদিনে সাত জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে গেছে বলে জেলেদের পরিবার ও নৌকার মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলেদের ফেরত আনতে সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরও এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মোহনার নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদেরসহ মোট ৭৩ জন জেলেকে বিজিবির সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, যাদের মধ্যে ৬৬ জন বাংলাদেশি ও ৭ জন রোহিঙ্গা ছিলেন।
এ ছাড়া গত ৬ মার্চ মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠি আরাকান আর্মির হাতে আটক তিন বাংলাদেশি নাগরিককে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ দিয়ে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।


