ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্রের জন্য সাহসী লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করায় মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ২০০৬ সালের শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার সরকারের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘তার প্রিয় ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্রের জন্য সাহসী লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ায় আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘মাচাদো অবিচল সংকল্প নিয়ে নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু কখনও নিজের দেশ ও জনগণের জন্য মুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেননি।’
মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল কমিটির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘নোবেল কমিটি যথার্থই বলেছে: “গণতন্ত্র নির্ভর করে সেইসব মানুষের ওপর, যারা নীরব থাকতে অস্বীকার করে, যারা চরম ঝুঁকি সত্ত্বেও এগিয়ে আসে এবং যারা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কখনই সহজে পাওয়া যায় না, বরং সর্বদা শব্দ, সাহস এবং সংকল্পের মাধ্যমে রক্ষা করতে হয়”।’
তিনি আরও বলেন, ‘মারিয়া মাচাদো একটি উন্নত বিশ্বের স্বপ্ন দেখার সাহস করেছেন এবং তা বাস্তবায়নের পথে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করছেন।’
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, মাচাদো ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রকৌশল ও অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষে তিনি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাথেনিয়া ফাউন্ডেশন, যা কারাকাসের রাস্তায় বেড়ে ওঠা শিশুদের কল্যাণে কাজ করে।
২০০২ সালে তিনি গড়ে তোলেন সুমাতে নামের একটি সংস্থা, যা স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং নাগরিক প্রশিক্ষণে কাজ করে। ২০১০ সালে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পান তিনি। কিন্তু ২০১৪ সালে স্বৈরাচারী সরকারের চাপে তাকে পদচ্যুত করা হয়। বর্তমানে তিনি বিরোধী দল ভেন্তে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে আছেন এবং ২০১৭ সালে গঠন করেন সোয়ি ভেনেজুয়েলা নামের জোট, যা রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করছে।
গত বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছিল জাপানের পরমাণু অস্ত্রবিরোধী সংগঠন নিহন হিদানকায়ো, যা বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলেছে।


