কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ে কৃষিকাজের সময় অপহরণের শিকার কৃষক পালিয়ে ফিরে এসেছেন। তার নাম সংকুচিং চাকমা (৩৫)।
রোববার সকালে কৌশলে অপহরণকারীদের কবল থেকে তিনি পালিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছান। পরে অপহৃত হওয়ার সেই শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা দিয়েছেন এই ভুক্তভোগী।
সংকুচিং চাকমা বলেন, ‘আমি পাহাড়ে কৃষিকাজ করার সময় ২০-৩০ জনের একটি অস্ত্রধারী দল আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। তারা আমার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। “আমি গরিব মানুষ, কৃষিকাজ করেই জীবন চালাই” এ কথা বলার পরও তারা আমাকে ছেড়ে দেয়নি। পরে আজ ভোরে তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়লে কৌশলে পালিয়ে আসি।’
টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, অপরণের শিকার ওই ব্যক্তি সকালে নিজেই পালিয়ে এসে থানায় বিষয়টি অবহিত করেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তিপণের জন্য এ অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। অপহৃত ব্যক্তি পালিয়ে আসায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।’
গত শনিবার দুপুরে টেকনাফ উপজেলার উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের চৌকিদারপাড়া পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজ করার সময় সন্ত্রাসীরা সংকুচিংকে অপহরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বৃদ্ধ এবাদুল্লাহ (৬০) দৌঁড়ে পালিয়ে যান।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২৭৫ জনকে অপহরণ করা হয়। তাদের অধিকাংশই মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এসেছেন। তবে, বর্তমানে কতজন এখনো অপরাধীদের কাছে জিম্মি রয়েছেন সে তথ্য তাদের কাছে নেই।


