মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানীর একটি সিন্ডিকেটে যুক্ত ইউনিক ইস্টার্ন লিমিটেডের মালিক নূর আলীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি ৭১ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলা দায়ের করেছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, তাদের প্রাথমিক তদন্তে ওই ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় বিদেশে অর্থপাচার প্রতিরোধ (মানিলন্ডারিং) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, ভিন্ন একটি সূত্র জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই দেশত্যাগ করেন নূর আলী।
সিআইডির তদন্তে জানা গেছে, ইউনিক ইস্টার্ন লিমিটেডের মালিক নূর আলী এবং তার সহযোগীরা সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছিলেন। সরকারি ফি হিসেবে, মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রতি কর্মীর জন্য ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা নির্ধারিত। কিন্তু তারা প্রতি কর্মীর কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা করে আদায় করেন। এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য বিভিন্ন খাতে, যেমন পাসপোর্ট খরচ, কোভিড-১৯ টেস্ট, মেডিকেল ফি এবং পোষাক সংক্রান্ত ফি আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, অভিযুক্তরা ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুই বছরে তিন হাজার ৭৮৭ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠান। এসব কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য তাদের কাছ থেকে ওই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগ, এর মাধ্যমে চক্রটি প্রায় ৪০ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ৩৭০ টাকা হাতিয়ে নেয়।
সিআইডির মতে, এই সমস্ত কার্যকলাপ বিদেশে অর্থপাচার প্রতিরোধ (মানিলন্ডারিং) আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ মামলাটির তদন্ত করছে। অপরাধের বিস্তারিত উদঘাটনের পাশাপাশি আরো অজ্ঞাতনামা অপরাধী শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।


