নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘ওই মহলের লোকজন বিশেষ করে মা-বোনদের কাছে গিয়ে তাদের এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর নেওয়ার চেষ্টা করছে। পর্যায়ক্রমে এভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘরে ঘরে গিয়ে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে। তাই এসব বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
শনিবার বিকালে টাঙ্গাইল জেলার এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিন হচ্ছে দেশ গড়ার দিন, মানুষের ভাগ্য বদল করার দিন। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকি, তাহলে আমাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’
তিনি ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে যাওয়ার পাশাপাশি ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তারেক বলেন, ‘আপনার ভোটে অন্য কেউ যেন আপনার নাম দিয়ে সিল মেরে না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সঠিক ভোটার ভোট দিচ্ছে কি না, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।’
জনসভায় টাঙ্গাইলের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন তারেক।
তিনি টাঙ্গাইলবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে।
টাঙ্গাইলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘এই অঞ্চল ঐতিহ্যবাহী। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে টাঙ্গাইলের শাড়ি বিদেশে রপ্তানি সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘টাঙ্গাইলে তৈরি নামাজের টুপি বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এ শিল্পকে আরও সম্প্রসারণ করলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
তিনি যমুনা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ, মিল-কারখানা স্থাপন, আনারস প্রক্রিয়াজাত করে জুস কারখানা প্রতিষ্ঠা, পাট শিল্পসহ নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সাবুর সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাইয়েদুল আলম বাবুল, বেনজীর আহমেদ টিটু, সাঈদ সোহরাব, শামসুজ্জামান সুরজসহ টাঙ্গাইলের আটটি আসনের প্রার্থীরা।
বিএনপির নির্বাচনী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তিন দিনে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া ও রংপুরে চারটি জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক। শেষ দিনে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে জনসভা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।


