জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচনের আগেই গণভোট করার দাবি তুলেছে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ৮টি রাজনৈতিক দল। তারা দ্রুত এ বিষয়ে আদেশ জারিরও আহ্বান জানিয়েছে। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এমন কথা বলছেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে। সেখানে একটি ভোট হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য, আরেকটি হবে গণভোটের জন্য। নির্বাচনের আগে আলাদা করে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই।’
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনমত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশকে সংকট থেকে উত্তরণ করতে যেদিকে যাওয়া দরকার, সেদিকেই আমাদের যেতে হবে।’
একটি মহল নির্বাচন বানচাল করতে ও বিলম্বিত করতে নানা বিভ্রান্তি ছড়ালেও বিএনপি নির্বাচন করবে এবং নির্বাচন করতে চায় বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।
এ সময়, আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে বিএনপি ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
নির্বাচন ও গণভোটের দাবিতে আন্দোলনরত দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জনগণ নির্বাচন চায়। আজ যারা গণভোটের নামে গোলমাল করছেন, রাস্তায় নেমেছেন তাদের বলব, দয়া করে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করবেন না।’
এর সঙ্গে ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা’ করে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে তাদের (জামায়াতে ইসলামী) নির্বাচনের বিরোধিতা না করার অনুরোধ জানান তিনি।
বিএনপি সংস্কারের দল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সংস্কার চায়, যে সংস্কারে সবাই একমত।’ ক্ষমতায় গেলে বিএনপি’র প্রস্তাবিত ৩১ দফা সংস্কার বাস্তবায়ন করার আশ্বাসও দেন তিনি।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এবং জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব প্রমুখ।


