নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি শুধু কথার রাজনীতি করে না, বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে উদ্যোগ নিয়েছে।’
সোমবার দুপুরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার দোশারীচোঁ মৌজায় ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।’
একইভাবে কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে এবং পয়লা বৈশাখের আশপাশে এটি চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়লে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়ক উদ্যোগ নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে জিয়াউর রহমানের সময়ের মতো আবারও খাল খনন কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। এসব কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেও কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আজিজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে লালমাই উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ‘বি-স্ট্রং’ প্রকল্পের আওতায় এ খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলার ৪২টি গ্রামের জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে জানানো হয়।


