আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সারাদেশে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সারাদেশের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ঢাকায় এনে তাদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করছেন শীর্ষ নেতারা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দেওয়া হচ্ছে দিক নির্দেশনাও।
বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন, আগামী অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে প্রাথমিক চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত তালিকা। এসব সিদ্ধান্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় হচ্ছে।
নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন দলের সিনিয়র নেতারা।
এদিকে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরের আন্দোলনে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। এই সময়ের মধ্যে ১২ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করতে চাচ্ছেন তিনি। কয়টি আসন মিত্র দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হবে, তাও নির্ভর করছে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।
নির্বাচনী প্রচারণায় দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্যও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রচারণায় কোনো ধরণের ব্যাঘাত বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মনোনয়ন না পেলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে একসঙ্গে কাজ করতে।ইতোমধ্যে, যেসব মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, তারা সকলেই দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং লিখিতভাবে এর গ্যারান্টি দিতে সম্মত হয়েছেন।
বিএনপি নেতাদের অনেক পরিবারে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, যেখানে একাধিক সদস্য বিভিন্ন আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চেয়ে পোস্টার লাগাচ্ছেন এবং এলাকায় ভোট চাচ্ছেন। একাধিক প্রার্থী থাকায় কিছু আসনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর সমাধানে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ বিভাগভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করছেন। র্শীষ নেতাদের সহযোগিতা করার জন্য বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের যুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অনেক সময় দলের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়।
ইতোমধ্যে, বরিশাল, কুমিল্লা এবং রাজশাহী অঞ্চলের প্রার্থীদের ঢাকায় এনে বৈঠক করা হয়েছে। তাদের থেকে নির্বাচনী এলাকায় পরিস্থিতি ও নিজের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়েছে। যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিতদের নির্বাচনী এলাকায় জনমত গঠনের জন্য দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা।
সম্প্রতি একটি বৈঠকে তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যে কোনো সমস্যা থাকলে তার সাথে লন্ডনে যোগাযোগ করতে। এর পর থেকে, অনেক নেতাই সরাসরি যোগাযোগ করছেন এবং নির্বাচনী এলাকার তথ্য পাঠাচ্ছেন। এতে প্রার্থীদের একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন, যা যাচাইয়ের জন্য আবার ঢাকায় ডেকে বৈঠক করা হচ্ছে।
বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা দ্য টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, দলটির অভ্যন্তরে সমস্যা থাকলেও তার সমাধানও রয়েছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য, দলের শীর্ষ নেতারা প্রতি সপ্তাহে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। প্রায় প্রতিটি বৈঠকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হচ্ছেন। তিনি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন, এবং প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে বলে নেতারা জানিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সারাদেশের প্রতিটি আসনে দলের একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন। এজন্য অনেক প্রার্থীর সঙ্গে ঢাকায় আলোচনা করা হচ্ছে। তবে, দলের ‘নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড’ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নিয়েই সকলে কাজ করবেন।


